নাদিরার সংসারে একটু স্বস্তি নিয়ে হাজির ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’ | আই নিউজ বিডি

নাদিরার সংসারে একটু স্বস্তি নিয়ে হাজির ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’..

Md Ubaydullah Rume avatar   
Md Ubaydullah Rume
নাদিরার সংসারে একটু স্বস্তি নিয়ে হাজির ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’..
নাদিরার সংসারে একটু স্বস্তি নিয়ে হাজির ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’..
ছবি: সংগৃহীত
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নাদিরা আক্তার (৩৫)। অভাবের সংসারে নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, এমনকি ঘুমানোর জন্য একটি খাট বা চৌকিও। মাটিতে বিছানা পেতে দুই মেয়ে ও ১৮ মাসের ছেলেকে নিয়ে রাত কাটে তাঁর। জীবিকার কোনো স্থায়ী অবলম্বন না থাকায় প্রতিবেশী ও গ্রামের কয়েকজন মানুষের সহযোগিতায় কোনোরকমে চলছে সংসার। এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’।

নাদিরার বাড়ি উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর (কান্দাপাড়া) গ্রামে। তাঁর স্বামী মাসুদ মিয়া প্রায় এক বছর আগে স্ট্রোক করে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম। বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। সংসারের অভাব অনটনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তার লেখাপড়া। ছোট মেয়ের বয়স ৯ বছর। সে চাপিলাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর একমাত্র ছেলের বয়স মাত্র ১৮ মাস।

স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নাদিরা। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় সন্তানদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনতার ঈশ্বরগঞ্জ’।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সংগঠনটির সদস্যরা নাদিরার হাতে একটি ছাগল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ভর্তি একটি ব্যাগ তুলে দেন। তাঁদের এই সহায়তা নাদিরার কাছে শুধু উপহার নয়, বরং কঠিন জীবনসংগ্রামে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত নাদিরা বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। মানুষের সহযোগিতায় কোনো রকমে বেঁচে আছি। সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারি না। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সব সময় চিন্তায় থাকি। এই ছাগলটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি লালন-পালন করে যদি কিছু আয় করতে পারি, তাহলে সন্তানদের নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারব। জনতার ঈশ্বরগঞ্জের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সরকারের কাছেও অনুরোধ, আমাকে যেন বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তার আওতায় নেওয়া হয়।

নাদিরার পরিবারের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে সহায়তার উদ্যোগ নেন সংগঠনের মডারেটর রুহুল আমিন। তিনি বলেন, নাদিরার অসহায়ত্বের কথা জানার পর মনে হয়েছে, তাঁর পরিবারের পাশে আমাদের দাঁড়ানো উচিত। বিশেষ করে তিনটি ছোট সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। ছাগলটি যেন তাঁর পরিবারের আয়ের একটি উৎস হয়ে ওঠে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন এহছানুল হক বলেন, মানুষের বিপদে ও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। নাদিরার মতো অসহায় একজন নারীর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের দেওয়া ছাগলটি তাঁর স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সামান্য হলেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এমন অসহায় পরিবারের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মডারেটর শরিফুল আলম, রুহুল আমিন, আরিফুল ইসলাম মুবিন, বায়জিদ হাসান রাহুল এবং স্বেচ্ছাসেবক আশরাফুল আলম সৌরভ ও মোস্তাকিম মিয়া।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator