খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার সন্তানকে গুলি করে… | আই নিউজ বিডি

খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার সন্তানকে গুলি করে হত্যা..

LATIF MORAL avatar   
LATIF MORAL
খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার সন্তানকে গুলি করে হত্যা..
খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতার সন্তানকে গুলি করে হত্যা..
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তরিকুল ইসলাম নামে এক ঘের ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন, যা এলাকায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।..

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১২নং রংপুর ইউনিয়নের আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ঘের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। নিহত তরিকুল স্থানীয় রংপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক শেখ আব্দুস সালামের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুপুর পৌনে ২টার দিকে তরিকুল এবং তার সহযোগী শাওন লিজ নেওয়া ঘের থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে গফফার সানার চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলযোগে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত চায়ের দোকানে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অত্যন্ত কাছ থেকে তরিকুলের মাথায় লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তরিকুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় জনপদে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

তরিকুলের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং পেশাদার খুনিদের কায়দায় এই অপারেশন সম্পন্ন করেছে। তরিকুল ঘের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় পূর্বশত্রুতা কিংবা ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসলেও, রাজনৈতিক পরিচয় এই হত্যাকাণ্ডের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শারীরিক ভাষা ও অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর, যা সাধারণ কোনো ছিনতাই বা ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনার চেয়ে বড় কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দিনের আলোয় প্রকাশ্য জনসমাগমস্থলে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ দেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

ঘটনার পরপরই ডুমুরিয়া থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং সিআইডির একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পুলিশের একাধিক টিম অপরাধীদের গ্রেফতারে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ বা জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে এলাকাটির সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এই ঘটনাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য তরিকুলের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, যা তদন্তের পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ডুমুরিয়া তথা বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতার সন্তানকে এভাবে গুলি করে হত্যা করার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। পরিবহণ ও ঘের ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এখন আতঙ্কে রয়েছেন। যদি এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ধীরগতির হয় কিংবা প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক সহিংসতার মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator