ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, সাবেক পুলিশ ও সেনাসদস্যসহ… | আই নিউজ বিডি

ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, সাবেক পুলিশ ও সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩..

মো: সৈকত হাসান, ফরিদপুর avatar   
মো: সৈকত হাসান, ফরিদপুর
ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, সাবেক পুলিশ ও সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩..
ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, সাবেক পুলিশ ও সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩..
ছবি: সংগৃহীত
****

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় ব্যবহার করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক এক সদস্য ও সেনাবাহিনীর সাবেক এক সদস্য। পুলিশের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নান্দাহা গ্রামের মো. লিমন মিয়া (৩৪), খুলনার লবণচরা এলাকার বাসিন্দা ও ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫) এবং তাঁদের সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসেরহাট এলাকা থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেয় চক্রের সদস্যরা। এ সময় নিজেদের ডিবি পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এরপর চালককে ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলা হয়। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নির্জন স্থানে চালককে জিম্মি করে ইজিবাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক শহিদুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় প্রথমে লিমন মিয়া ও সাখাওয়াত মুন্সিকে আটক করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রঘুন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লিমন মিয়ার বিরুদ্ধে ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও বোয়ালমারী, রাজবাড়ীর পাংশা, মাদারীপুর সদর এবং ঢাকার শ্যামপুরসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শুধু ইজিবাইক ছিনতাই নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আরও কয়েকটি অপরাধের সঙ্গে এই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত ১২ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে ডাকাতির ঘটনায়ও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় একটি ১৮০ সিসির ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।
জাহাঙ্গীরের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও স্বীকার করেছেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে বৃহত্তর একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator