উন্নয়নের মানচিত্রে থেকেও বিচ্ছিন্ন ডুমুরিয়ার ময়নাপুর: মৌলিক নাগরিক… | আই নিউজ বিডি

উন্নয়নের মানচিত্রে থেকেও বিচ্ছিন্ন ডুমুরিয়ার ময়নাপুর: মৌলিক নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ৩৫ পরিবার..

LATIF MORAL avatar   
LATIF MORAL
উন্নয়নের মানচিত্রে থেকেও বিচ্ছিন্ন ডুমুরিয়ার ময়নাপুর: মৌলিক নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ৩৫ পরিবার..
উন্নয়নের মানচিত্রে থেকেও বিচ্ছিন্ন ডুমুরিয়ার ময়নাপুর: মৌলিক নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ৩৫ পরিবার..
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের ময়নাপুর গ্রামটি শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যেখানে একটি পরিত্যক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন স্থানীয়দের গোডাউন হিস..

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের প্রান্তিক জনপদ ময়নাপুর যেন উন্নয়নের মূলস্রোত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ। জেলা সদর ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থার চরম অবনতি এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রামটি দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলার শিকার হচ্ছে। প্রায় ৩৫টি পরিবার অধ্যুষিত এই গ্রামে নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতায় এই গ্রামটি এখন মৌলিক নাগরিক সুবিধার মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ২০২৩ সালে শিক্ষার্থী সংকটের দোহাই দিয়ে ময়নাপুর ২০৩ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে স্থানীয়দের ব্যক্তিগত গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি জনপদের শিক্ষা কাঠামোর এই করুণ পরিণতিই প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন এখন চরম সংকটাপন্ন, বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তরুণ প্রজন্ম ও দিনমজুররা দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জিত এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শংকর মণ্ডলের দেওয়া তথ্যানুসারে, গ্রামের ৩৫টি পরিবারের মধ্যে অন্তত ১৫টি পরিবার দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল, যাদের কাজের সন্ধানে প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার দূরের কপালিয়া বাজার কিংবা আরও দূরের গন্তব্যে ছুটতে হয়। চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে যে পরিমাণ ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা এক প্রকার অমানবিক। শংকর মণ্ডল সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তারা কোনো কার্যকর সহায়তা পান না। এর ওপর গত পাঁচ বছর ধরে বিল খোকসের বিলে ধান উৎপাদন না হওয়ায় কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো এখন চরম অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই অবহেলা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব গ্রামটির বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে মানবেতর পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।

বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পেছনে স্থানীয়দের অভিযোগের আঙুল সাবেক প্রধান শিক্ষক তাপস মণ্ডলের দিকে থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তাপস মণ্ডলের দাবি, তিনি বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন, তবে বিদ্যালয়টি কেন বন্ধ হলো তার সদুত্তর তার কাছে নেই। এদিকে দায়সারা গোছের মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মহসিন গাজী, যিনি যাতায়াত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে এতদিন গ্রামবাসীদের খোঁজখবর না নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল হক দাবি করেছেন যে তিনি নিয়মিত খোঁজ রাখেন, তবে বাস্তবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প বা ত্রাণ সহায়তা এই গ্রামে পৌঁছায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও দায় এড়ানো আচরণ প্রমাণ করে যে, ময়নাপুরের সমস্যা সমাধানের চেয়ে একে এড়িয়ে চলাই তাদের অগ্রাধিকার।

ময়নাপুরের এই স্থবিরতা কেবল একটি গ্রামের সমস্যা নয়, বরং এটি প্রান্তিক পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি বড় দৃষ্টান্ত। স্কুলহীন গ্রাম, কর্মসংস্থানহীন পরিবার এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই জনপদটি এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ক্লান্ত। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়টি পুনর্চালনা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে গ্রামটি জনশূন্য হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, উন্নয়নের এই জোয়ারে ময়নাপুরের ৩৫টি পরিবারের অধিকার কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্থানীয় প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা, যাতে করে এই বিচ্ছিন্ন জনপদটি পুনরায় মূলধারার উন্নয়নে ফিরে আসতে পারে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator