মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সাতক্ষীরা, অপশক্তির… | আই নিউজ বিডি

মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সাতক্ষীরা, অপশক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সাতক্ষীরা, অপশক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি..
মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সাতক্ষীরা, অপশক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি..

শেখ আমিনুর হোসেন সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোলের ওপর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে তিন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তফা নুর আলম।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আজও তাদের হিংস্র রূপ নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। একজন মুসলমান কীভাবে আরেকজন মুসলমানের জানাজা ও দাফনে বাধা দিতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে, তাদের দ্বারা একজন মৃত ব্যক্তির শেষ বিদায়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অতীতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মাজার ভাঙচুর এবং দাফনের পর কবর থেকে মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এ দেশ রাজাকারের নয়, এ দেশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন, তাদের।” মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, দ্য ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুর রউফ, আব্দুল হামিদ, আব্দুস সোবহান, শফিক আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন গণফোরাম নেতা আলিনুর খান বাবুল, জাসদ নেতা হেলালু রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা আশিকি এলাহি, সিপিপি নেতা আবুল হোসেন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা স্বপন কুমার শীল। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো সুযোগ নেই। একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অসম্মান নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার প্রতিও অবমাননাকর। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator