নিজস্ব প্রতিনিধি:
কচুয়া উপজেলার ১০ নং গোহট উত্তর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন জসিম তাঁর বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন
অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর শিক্ষাগত সনদ জাল এবং বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
কাজী মেজবাহউদ্দিন জসিম জানান, তিনি কাজী মাওলানা মোঃ তাজুল ইসলামের ছেলে। তাঁর বাড়ি কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকায়। ২০১১ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে তিনি ১০ নং গোহট উত্তর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সততা ও সুনামের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।
মেজবাহউদ্দিন জসিমের অভিযোগ, আব্দুল গফুর নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানান মেজবাহউদ্দিন জসিম।
নিকাহ রেজিস্ট্রার জসিমের ভাষ্য, এর আগে তাঁর নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অভিযোগটি গ্রহণ করেনি। তবে মন্ত্রণালয় অভিযোগটি বাতিল করেছেন।
নিজের শিক্ষাগত সনদ জাল এবং বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অভিযোগের বিষয়ে মেজবাহউদ্দিন জসিম বলেন, এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। তাঁর দাবি, আব্দুল গফুর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
তিনি বলেন, “আমার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি রয়েছে। প্রশাসন চাইলে আমি সেগুলো উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক।”
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে আব্দুল গফুরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।