গণভোট ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে জামায়াতের লংমার্চ: বাগেরহাটে ডা… | আই নিউজ বিডি

গণভোট ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে জামায়াতের লংমার্চ: বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর হুঁশিয়ারি..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
গণভোট ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে জামায়াতের লংমার্চ: বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর হুঁশিয়ারি..
গণভোট ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে জামায়াতের লংমার্চ: বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর হুঁশিয়ারি..
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ামুখী জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ বাগেরহাটের কাটাখালীতে পৌঁছেছে, যেখানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপস..

রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালীতে পৌঁছালে এক বিশাল পথসভার আয়োজন করা হয়। শনিবার ৩১ অক্টোবর সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে যাত্রা শুরু করে পদ্মা সেতু ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ পথ পাড়ি দিয়ে এই বিশাল গাড়িবহর বাগেরহাটে প্রবেশ করে। লংমার্চের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই এবং জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত চেতনাকে সমুন্নত রাখাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। কাটাখালী মোড় সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রাজনৈতিকভাবে সরগরম হয়ে ওঠে, যা মূলত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার এজেন্ডা এবং গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে জনমত গঠনের একটি বড় মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পথসভায় অংশ নেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি এবং দখলদারিত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা তাদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেবল নামমাত্র সংস্কার নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারি নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি। তিনি কানেক্টিভিটির নামে দেশের জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে অন্যায় ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে, যারা মূলত একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে।

লংমার্চের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা চলবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। দলের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবির যে তালিকা পেশ করা হয়েছে, তার মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে লংমার্চের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানানো হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই লংমার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী দেশের তৃণমূল পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিচ্ছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে নিজেদের দাবিগুলোকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল গ্রহণ করেছে।

পরিশেষে, বাগেরহাটের কাটাখালীতে আয়োজিত এই পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর খুলনা মহানগরী, ফুলতলা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে যাত্রা করেছে, যেখানে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। এই লংমার্চ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। রাজপথের এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের মনে কতটুকু আশার সঞ্চার করতে পারবে এবং সরকার এই সাত দফা দাবির বিপরীতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে একথা নিশ্চিত যে, এই দীর্ঘ যাত্রাপথে জামায়াতে ইসলামীর এই কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে যা আগামী দিনের শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator