চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার পাঁচ বিদায়ী হাফেজকে পাগড়ি ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মো. শাহ আলম। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ফেনীর জামেয়া রশিদিয়ার নায়েবে মুহতামিম আলহাজ মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ। প্রধান মেহমান ছিলেন দারুল উলুম মহিউচ্ছুন্নাহ নুরপুর মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ মাওলানা নুরুল্লাহ।
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফেনীর জামেয়া কাছেমিয়া ফজলুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম হযরত মাওলানা কারী মো. ফয়েজ উল্লাহ। এছাড়া আলোচনা করেন হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন ফেনী জেলার সেক্রেটারি মাওলানা হাফেজ ওজায়ের কাসেমী, ছাগলনাইয়া সিরাজুল উলুম শর্টকোর্স মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি মিজান সিরাজী এবং বারইয়ারহাট পৌরসভার কদমতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মো. শাহ আলম বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের হাফেজ তৈরি করা আমাদের জন্য গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়। একজন শিক্ষার্থী দীর্ঘ সাধনা, অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হিফজ সম্পন্ন করে। আজকের এই পাগড়ি ও ক্রেস্ট প্রদান তাদের সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা কোরআন শুধু মুখস্থ রাখবে না বরং কোরআনের শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করবে এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।’
প্রধান বক্তা মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। কোরআনের হাফেজ হওয়া যেমন বড় সৌভাগ্যের বিষয়, তেমনি এর মর্যাদা রক্ষা করাও অনেক বড় দায়িত্ব। হাফেজদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের উত্তম চরিত্র গঠনে গুরুত্ব দিতে হবে।’
মাহফিলের একপর্যায়ে মাদরাসার পাঁচ বিদায়ী হাফেজকে পাগড়ি ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।