আদম আ: এর আগে কারা ছিল পৃথিবীতে? | আই নিউজ বিডি

আদম আ: এর আগে কারা ছিল পৃথিবীতে?

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
আদম আ: এর আগে কারা ছিল পৃথিবীতে?
আদম আ: এর আগে কারা ছিল পৃথিবীতে?
ছবি: সংগৃহীত
রহস্যময় ‘হিন-বিন’, জিন জাতি ও মানবসৃষ্টির অনালোচিত ইতিহাস

 

সালাউদ্দিন আকবর


লেখক, কবি ও প্রাবন্ধিক

 

হিন’  ও ‘বিন’  হলো ইসলামি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রাচীন তাফসির গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত দুটি রহস্যময় প্রজাতি বা সৃষ্টি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ ও মুফাসসিরদের মতামত অনুযায়ী, হযরত আদম (আ.) ও জিন জাতিরও পূর্বে পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব ছিল। 

আল-কুরআন বা সহিহ হাদিসে এদের কথা সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, বিখ্যাত মুফাসসির হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’-তে এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ওলামাগণ সাহাবি ও তাবেয়িদের সূত্রে এদের সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন। 

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবিদের বর্ণনা

তাফসীরের কিতাবগুলোতে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আদম (আ.)-এর সৃষ্টির প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে জিন জাতি (এবং কোনো কোনো বর্ণনা মতে হিন ও বিন জাতি) সৃষ্টি করেছিলেন।

ইবনে কাসির (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, হিন ও বিন প্রজাতি পৃথিবীতে দীর্ঘকাল বসবাস করেছিল। কিন্তু একপর্যায়ে তারা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে চরম বিপর্যয়, ফাসাদ ও ব্যাপক রক্তপাত ঘটায়। তাদের এই সীমাহীন পাপের কারণে পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা জিন জাতিকে সৃষ্টি করেন এবং জিনরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। জিনদের আক্রমণে হিন ও বিন প্রজাতি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস ও পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

  • তারা পৃথিবীতে বসবাস করতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে অবাধ্যতা, রক্তপাত ও চরম ফাসাদে (বিপর্যয়) লিপ্ত হয়।
  • তাদের এই ক্রমাগত পাপ ও রক্তপাতের কারণে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের একটি দল পাঠান।
  • ফেরেশতারা এসে তাদের ওপর আক্রমণ করেন এবং তাদের পরাজিত করে সমুদ্রের দ্বীপ ও দুর্গম পর্বতমালায় তাড়িয়ে দেন।

পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে যখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বললেন, "আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (খলিফা) বানাতে যাচ্ছি।" তখন ফেরেশতারা উত্তর দিয়েছিলেন:

"আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যারা ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে?"

মুফাসসিরগণের মতে, ফেরেশতারা মানুষের সৃষ্টি করার আগেই কীভাবে জানলেন যে তারা রক্তপাত করবে—এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই হিন, বিন বা পূর্ববর্তী জিনদের কর্মকাণ্ড। তারা পৃথিবীতে হিন ও বিন জাতির সেই ভয়াবহ রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ সশরীরে প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যার ফলে তারা মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন।

হিন ও বিন সম্পর্কে প্রধান ঐতিহাসিক তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. এদের পরিচয় ও আগমন

তাফসিরবিদদের একাংশের মতে, আল্লাহ তাআলা জিন জাতি সৃষ্টির বহু পূর্বে পৃথিবীতে ‘হিন’ ও ‘বিন’ নামক দুটি জীব সৃষ্টি করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় এদের সাথে ‘তিম’ ও ‘রিম’ নামক আরও দুটি গোত্রের নামও পাওয়া যায়। এরা দেখতে কেমন ছিল বা এদের সৃষ্টিগত উপাদান কী ছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। তবে এরা বুদ্ধিমান এবং স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন প্রজাতি ছিল।

৩. নামের ভাষাগত তাৎপর্য

কোনো কোনো ইসলামি স্কলার (যেমন ইবনে বাররাজান) এর একটি রূপক বা ভাষাগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন: 

  • হিন (Hinn): এরা এমন সৃষ্টি ছিল যারা আল্লাহর নতুন কোনো প্রতিনিধির (যেমন আদম) আগমন বা সৃষ্টির জন্য প্রতীক্ষায় (Hanna) ব্যাকুল ছিল।
  • বিন (Binn): এরা ছিল মানুষের আগমন ও আল্লাহর বিধানের তীব্র বিরোধী (Bana), যারা পৃথিবীতে কেবল বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল।

অস্ট্রালোপিথেকাস বা প্রাক-মানব প্রজাতিগুলোই তাফসিরে বর্ণিত সেই 'হিন-বিন' বা জিন জাতি ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে সমসাময়িক ইসলামি গবেষক, বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের মধ্যে এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং তাফসিরের বর্ণনার সংযোগ নিয়ে দুটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

১. আধুনিক গবেষকদের সমন্বয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি 

বর্তমান যুগের অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিজ্ঞানী জীবাশ্মবিজ্ঞান (Paleontology) এবং তাফসিরের বিবরণের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করেন। তাঁদের যুক্তিগুলো হলো:

  • 'হিন' ও 'বিন'-এর পরিচয়: হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত 'হিন' (Hinn) ও 'বিন' (Binn) প্রজাতি দুটি জিনদের চেয়ে আলাদা ছিল বলে কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়। অনেক গবেষক মনে করেন, আদম (আ.)-এর পূর্বে পৃথিবীতে মানুষের মতো দেখতে কিন্তু মানুষের চেয়ে অনুন্নত কিছু দ্বিপদী প্রজাতি (Hominids) হয়তো সত্যি ছিল। অস্ট্রালোপিথেকাস, হোমো হ্যাবিলিস বা হোমো ইরেক্টাস সেই 'হিন-বিন' বা মানুষের পূর্ববর্তী কোনো দৈহিক প্রজাতি হওয়ার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
  • ফেরেশতাদের অভিজ্ঞতার উৎস: ফেরেশতারা যখন বলেছিলেন, "আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ ও রক্তপাত ঘটাবে?"—তখন তারা কেবল জিনদের রক্তপাতই দেখেননি, বরং মানুষের মতো অবয়বের অন্য কোনো আদিম প্রজাতির হিংস্রতা ও রক্তপাতও দেখে থাকতে পারেন।

২. মূল ইসলামিক সিদ্ধান্ত

ইসলামি আকীদা অনুযায়ী, হযরত আদম (আ.) হলেন পৃথিবীর সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ 'মানুষ' (Homo sapiens/Human)। তাঁর পূর্বে কোনো মানুষ ছিল না। 

তাই সামগ্রিক বিশ্লেষণে বলা যায়:

অস্ট্রালোপিথেকাস বা প্রাগৈতিহাসিক হোমো প্রজাতিগুলো যদি থেকে থাকে, তবে তারা জিন জাতির অংশ নয়, কারণ জিনরা অদৃশ্য ও অগ্নিজাত।

তবে আদম (আ.)-এর পূর্বে যদি মাটিতে বসবাসকারী কোনো রক্তমাংসের হিংস্র প্রজাতি থেকে থাকে, তবে জীবাশ্মবিজ্ঞানের অস্ট্রালোপিথেকাস বা আদিম হোমিনিড প্রজাতিগুলোই তাফসিরে বর্ণিত সেই রহস্যময় 'হিন' বা 'বিন' প্রজাতি হওয়ার একটি তাত্ত্বিক সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও ইসলামি শরিয়ত বা আধুনিক বিজ্ঞান—কোনো পক্ষ থেকেই এটি শতভাগ প্রমাণ করার সুনির্দিষ্ট উপায় নেই।

ইবনে আব্বাস (রা.) ও সুদ্দী (রহ.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, সেই জাতিটির "স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি" (ছিল, যার কারণে তারা পাপ, রক্তপাত ও আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অস্ট্রালোপিথেকাস ছিল প্রাইমেট বা আদিম দ্বিপদী প্রাণী, যাদের মস্তিস্কের আকার ছিল আধুনিক মানুষের তুলনায় অনেক ছোট (প্রায় এক-তৃতীয়াংশ) এবং তারা নৈতিক বা ধর্মীয় অবাধ্যতা করার মতো উন্নত চেতনার অধিকারী ছিল না।

অতএব, বিবর্তনের তত্ত্বে আধুনিক মানুষ এ ধারণাটা সঠিক নয়, পবিত্র আল-কোরআনের সূরা আত-ত্বীন-এর ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এই ঘোষণা দিয়েছেন: "لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ"—অর্থাৎ, "অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম অবয়বে/গঠনে" সুরা আত তীন

  • শ্রেষ্ঠ গঠন: আল্লাহ তাআলা মানুষকে শারীরিক কাঠামো, বুদ্ধিমত্তা, বিবেক এবং জ্ঞানার্জনের উপযুক্ত শ্রেষ্ঠ অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।
  • নৈতিক দায়িত্ব: এই সুন্দর অবয়বে সৃষ্টির পর মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা এবং সৃষ্টির সেরা হিসেবে সৎকর্ম করা।

পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর।এই সুদীর্ঘ কালখণ্ডে মহাবিশ্বের মহানুভব স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই গ্রহকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সৃষ্টির মাধ্যমে সাজিয়েছেন এবং পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন:

"তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন..." (সূরা আল-বাকারাহ: ২৯)

ইসলামের দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর এক অপার কুদরত। 

আল্লাহ তাআলা যদি এই ফসিলগুলোকে মাটির নিচে সংরক্ষণ না করতেন, তবে আধুনিক মানুষ জানতেও পারত না যে তাদের পূর্বে এই পৃথিবীতে স্রষ্টা কত বিচিত্র ও ভয়ংকর অবয়বের প্রাণী সৃষ্টি করেছিলেন। এটি মানুষের জন্য একটি চিন্তার খোরাক যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ যখন ইচ্ছা কোনো প্রজাতিকে পৃথিবীতে রাজত্ব দিতে পারেন, আবার যখন ইচ্ছা তাদের বিলুপ্ত করে দিতে পারেন।

এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ইসলামের "আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)"-এর ধারণাকে সরাসরি সমর্থন করে। বিজ্ঞান যাকে "Genetic Adam" এবং "Mitochondrial Eve" বলছে, ইসলাম ঠিক তা-ই ১৪০০ বছর আগে ঘোষণা করেছে:

"হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো..." (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)

আল্লাহর কুদরতের মানচিত্র অনুযায়ী, আদম (আ.)-এর বংশধরেরা যখন পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেন, তখন ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু এবং অতিবেগুনি রশ্মির তারতম্যের কারণে ডিএনএ-তে সামান্য পরিবর্তন (Mutation) ঘটে। এর ফলেই মানুষের গায়ের রঙ, চেহারা এবং বিভিন্ন জাতির (যেমন ককেসীয়, মঙ্গোলীয়, আফ্রিকান) বৈচিত্র্য তৈরি হয়। এটি কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এক অনন্য ডিজাইন।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ

মাটিতে পাওয়া যাওয়া অস্ট্রালোপিথেকাস, হোমো ইরেক্টাস কিংবা নিয়ানডার্থালদের মতো আদিম, হিংস্র ও দ্বিপদী প্রজাতিগুলোই হয়তো তাফসিরে বর্ণিত সেই রহস্যময় 'হিন' বা 'বিন' গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইসলামি আকীদা ও হাদিস বিশারদদের মতে, হিন ও বিন সংক্রান্ত এই বিবরণগুলো মূলত 'ইসরাঈলি রেওয়ায়েত' বা ঐতিহাসিক লোককাহিনীর অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এ ব্যাপারে কোনো সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়নি, তাই একজন মুসলিমের জন্য এদের অস্তিত্বকে সত্য বা মিথ্যা কোনোটিই জোর দিয়ে বলার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আদম (আ.)-এর পূর্বে যে পৃথিবীতে অন্য কোনো সৃষ্টির ফাসাদ সৃষ্টির ইতিহাস ছিল, তা সূরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। 

রাসুল (সা.)-এর অনুমতি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, "তোমরা বনি ইসরাঈলদের থেকে বর্ণনা করতে পারো, এতে কোনো দোষ নেই (যদি না তা শরিয়তের বিরোধী হয়)"। এই অনুমতির কারণে সাহাবি ও তাবেয়িগণ সৃষ্টির সূচনা বা প্রাচীন ইতিহাসের এমন কিছু বিবরণ আলোচনা করতেন যা তারা আগের কিতাবের পণ্ডিতদের থেকে শুনেছিলেন। এগুলোকেই সাহাবি-তাবেয়িদের সূত্রে আসা 'ইসরাঈলি রেওয়ায়েত' বলা হয়।

ইসলামি শরিয়তে ইসরাঈলি রেওয়ায়েতের অবস্থান ও শ্রেণিবিভাগ

ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) এবং হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) ইসরাঈলি রেওয়ায়েতকে ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন: 

  1. যেগুলো সত্য: যা কুরআন বা সহিহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত (যেমন: ফেরাউন ডুবে মরার ঘটনা)।
  2. যেগুলো মিথ্যা: যা সরাসরি কুরআন বা শরিয়তের মূলনীতির বিরোধী (যেমন: নবীদের শানে বেআদবিমূলক কোনো গল্প)।
  3. যেগুলো নীরব বা নিরপেক্ষ (মাকতুফ): যা সত্যও বলা যায় না, মিথ্যাও বলা যায় না। কুরআন বা হাদিসে এগুলোর সপক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

ইসলামের পরিভাষায় "লা তুসাদ্দিকুহু ওয়া লা তুকাযযিবুহু"(এগুলোকে সত্য বলেও গ্রহণ করো না, আবার মিথ্যা বলেও উড়িয়ে দিও না) স্তরে রাখা হয়।

 

'হিন ও বিন' এর ঘটনাটি এই ৩ নম্বর বা নিরপেক্ষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে মুখ ফুটে এদের নাম বলেননি বা কোনো সহিহ সনদে এটি প্রমাণিত নয়, তাই একে আকীদা বা বিশ্বাসের অংশ বানানো যায় না।

 

(ইসলামি ইতিহাস, তাফসির ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ।)

 

ইসলামি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সূত্র:

তাফসির ইবনে কাসির

  • সূরা আল-বাকারাহ: ৩০-এর ব্যাখ্যা।
  • সূরা আল-হিজর: ২৭-এর ব্যাখ্যা।

. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া

  • লেখক: হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.)।
  • প্রথম খণ্ড, সৃষ্টির সূচনা ও আদম (আ.)-এর পূর্ববর্তী সৃষ্টিসংক্রান্ত আলোচনা।

 

.. সালাউদ্দিন আকবরের নিবন্ধ , সৃষ্টির মহাকাব্য: প্রাগৈতিহাসিক ফসিল, জিন জাতি এবং মানব মাইগ্রেশনের মহাবিস্ময় 

 

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator