নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের খোঁজে সাগরে উপকূলের জেলেরা, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের খোঁজে সাগরে উপকূলের জেলেরা, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের খোঁজে সাগরে উপকূলের জেলেরা, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য..
নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের খোঁজে সাগরে উপকূলের জেলেরা, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য..
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ফের ইলিশ শিকারে নামছেন উপকূলের হাজারো জেলে, যা ঘিরে বাগেরহাটসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।..

দীর্ঘ ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে আবারও নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে নামছেন বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় সরকারি এই বিধিনিষেধের সময়সীমা শেষ হওয়ায় উপকূলের মোংলা, শরণখোলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জ এলাকার মৎস্যজীবীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রলার ও নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা, জাল মেরামত এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বরফ সংগ্রহের মাধ্যমে জেলেরা এখন কর্মব্যস্ত। মূলত ইলিশের ভরা মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা জেলেদের জন্য এক প্রকার বাধ্যতামূলক বিরতি হলেও, এখন তারা আবার সমুদ্রে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। প্রথম দিনেই জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন হাজারো মৎস্যজীবী, যারা দীর্ঘ দিন অলস সময় কাটানোর পর আবারও জীবিকার মূল স্রোতে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

তবে এই প্রত্যাশার বিপরীতে জেলেদের মনে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের রেশ রয়ে গেছে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের চড়া দামের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, গত কয়েক মাসের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ নদী ও সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়া গেলে মহাজনের ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক জেলে ধারদেনা করে জাল ও নৌকার মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাই মাছ না পাওয়া গেলে তাদের পথে বসার উপক্রম হবে। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সাগরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়, যা দরিদ্র জেলেদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের মতে, মাছের প্রাপ্তি ও দামের সামঞ্জস্য না থাকলে কেবল পরিশ্রমটুকু সার হবে, লাভ খুব একটা অবশিষ্ট থাকবে না।

অন্যদিকে মৎস্যজীবী সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশ আহরণ শুরু হওয়ার সাথে সাথে উপকূলের মৎস্যঘাট, আড়ত এবং বরফকলগুলোতে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে মাছের সরবরাহ বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সাধারণত মধ্যস্বত্বভোগী ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং সাধারণ ভোক্তাদেরও চড়া দামে ইলিশ কিনতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি থাকলেও, মাছ আহরণ পরবর্তী বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে এখনো জোরালো কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় জেলেরা দাবি করছেন, সরকার যদি জ্বালানি সহায়তাসহ মৎস্য খাতে আধুনিক নজরদারি নিশ্চিত করতে পারে, তবেই এই পেশায় টিকে থাকা সম্ভব হবে।

উপকূলীয় এই মৎস্য শিল্পের ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবারের ভাগ্য এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের মাছের প্রাপ্তির ওপর। ইলিশের মৌসুম ঘিরে কেবল জেলেদের জীবনই নয়, বরং পরিবহন খাত এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের চাকাও সচল হয়, যা দেশের সামগ্রিক মৎস্য অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি সাগরে ইলিশের বিচরণ স্বাভাবিক থাকে এবং জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছ নিয়ে ফিরতে পারেন, তবেই উপকূলের জনপদে স্বস্তি ফিরবে। অন্যথায়, ঋণগ্রস্ত জেলেদের জন্য এই মৌসুমটি কেবল একটি সাময়িক স্বস্তি হয়েই থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator