কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রেমের বিরোধের জেরে মামাকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্ত ভাগিনা মো. শিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানার ২ নম্বর আকুবপুর ইউনিয়নের কোড়েরপাড় মধ্যপাড়া গ্রামের ইসরাইলের বাড়ির পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তার ওপর মাসুদ মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়। নিহত মাসুদ মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে।
খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেকেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাসুদ মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে মামার সাথে সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থাতেই ভিকটিমের ভাগিনা মো. শিপন মিয়ার সঙ্গেও ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে মামা ও ভাগিনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলে আসছিল।
ঘটনার চার দিন আগে গত ২০ অক্টোবর দুপুরে শিপন ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে মামা মাসুদ মিয়ার বোনের বাড়িতে যান। এ সময় মাসুদ মিয়ার সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে শিপন তখন প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে নিহতের বোন বিষয়টি সে সময় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দিয়েছিলেন।
পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৪ অক্টোবর রাতে শিপন কৌশলে মামা মাসুদ মিয়াকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। এরপর পূর্ব থেকে সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন রক্তমাখা অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচর হলে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানার একটি বিশেষ টিম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৫ অক্টোবর বিকেলে আনুমানিক সাড়ে চারটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন কুটি ভাঙানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মো. শিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শিপন তার মামার সঙ্গে এবং নিজের সঙ্গে একই নারীর প্রেমের সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।