সাতক্ষীরায় তিন শিশুবিবাহে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, মুচলেকা দিলেন অভিভাবকেরা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরায় তিন শিশুবিবাহে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, মুচলেকা দিলেন অভিভাবকেরা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় তিন শিশুবিবাহে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, মুচলেকা দিলেন অভিভাবকেরা..
সাতক্ষীরায় তিন শিশুবিবাহে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, মুচলেকা দিলেন অভিভাবকেরা..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তাঁরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না—এমন অঙ্গীকার করে তাঁরা মুচলেকাও দিয়েছেন।

ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর বিয়ে। কয়েক দিন আগে ওই শিশুর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। বিয়েতে বরের বয়স ১৭ বছর। বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখা হলেও পরে প্রকাশ্যে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয় গত বৃহস্পতিবার। ওই কিশোরী ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিয়ের আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা সাকিবুর রহমান বাবলা গত বৃহস্পতিবার ঘটনাগুলোর বিষয়ে জানতে পেরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিশুবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করেন।

পরবর্তী সময়ে রোববার অফিস চলাকালে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এবং বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে তাঁরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করে নিজেদের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন।

এ সময় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, শিশুবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা, সংশ্লিষ্ট পরিবারের স্বজন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ, তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটি শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্যও বড় বাধা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া একটি শিশুর বিয়ের ঘটনা পরিবার ও সমাজের সচেতনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সমাজের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। শুধু বিয়ে বন্ধ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেই দায়িত্ব শেষ নয়; শিশুরা যেন পুনরায় বিয়ের ঝুঁকিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator