পুলিশি ব্যারিকেড এড়িয়ে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর খেলা: ভারতে ডিজিটাল রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের জয়জয়কার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পুলিশি ব্যারিকেড এড়িয়ে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর খেলা: ভারতে ডিজিটাল রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের জয়জয়কার..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
পুলিশি ব্যারিকেড এড়িয়ে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর খেলা: ভারতে ডিজিটাল রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের জয়জয়কার..
পুলিশি ব্যারিকেড এড়িয়ে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর খেলা: ভারতে ডিজিটাল রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের জয়জয়কার..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের ধরনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ওয়েব-ভিত্তিক অনলাইন গেমগুলো দেশটিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কর্মসংস্থান ও ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ থেকে..

ভারতের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে পুঁজি করে দেশটিতে নতুন এক ডিজিটাল ধারার সূচনা হয়েছে, যেখানে পুলিশি বাধা ও ব্যারিকেড এড়িয়ে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৈরি হয়েছে ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিপ্লেয়ার গেম। গত ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়া ‘জন্তর মন্তর চলো’ নামক গেমটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে প্রতি মুহূর্তে অন্তত দুই হাজার ব্যবহারকারী সক্রিয় থাকছেন। ২৭ বছর বয়সী আইটি পেশাজীবী সুরজ কুশওয়াহের তৈরি এই গেমটি মূলত ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান বিভিন্ন বিক্ষোভ ও পুলিশের কঠোর অবস্থানের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিচ্ছবি। গেমটিতে খেলোয়াড়রা একদিকে যেমন প্রতিবাদকারী হিসেবে ব্যারিকেড এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে লাঠিচার্জ বা কাঁদানে গ্যাসের মাধ্যমে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার সুযোগও পান। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি মূলত ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জমে থাকা রাজনৈতিক অসন্তোষকে একটি শৈল্পিক ও ব্যঙ্গাত্মক রূপ দেওয়ার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ও আন্দোলনকারী তরুণদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে তাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়াই এই অনলাইন গেমগুলো। গেমটির নির্মাতা সুরজ কুশওয়াহের ভাষ্যমতে, যখনই সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে দিল্লির রাজপথে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছে, তখনই তাদের আটক করা হচ্ছে এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যা অনেকটা সার্কাসের মতো মনে হয়। এই বাস্তব পরিস্থিতিকে তারা থ্রিডি গেমের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যাতে প্রতিবাদের কষ্ট ও পুলিশের দমনপীড়নের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যরসের ছলে পৌঁছায়। শুধু সুরজ কুশওয়াহ নন, অনভ নায়ার ও তার ভাই অক্ষয়ের মতো তরুণ শিল্পীরাও ৮-বিট আর্কেড গেমের আদলে নেহা বোরা নামক এক কর্মীকে মূল চরিত্র করে নতুন গেম তৈরি করেছেন। তাদের মতে, ব্যঙ্গ বা বিদ্রূপ হলো কোনো রাজনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, যা সরাসরি কোনো বক্তৃতার চেয়েও দ্রুত মানুষের চিন্তায় প্রভাব ফেলে।

তবে এই গেমগুলোর জনপ্রিয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও কর্মসংস্থানের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে এই গেমগুলো নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছে, যা সরকার ও নির্বাচন কমিশন বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে, বিজেপি এতদিন অনলাইনে এবং মাঠপর্যায়ে তাদের নিজস্ব বয়ান চাপিয়ে দিয়ে আধিপত্য বজায় রেখেছিল, কিন্তু বর্তমানের জেন-জি প্রজন্ম সেই আধিপত্যকে ডিজিটাল কৌশলে মোকাবিলা করছে। জুলাই মাসে ‘আরশোলা’ বা ককরোচ আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা প্রমাণ করে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এই ধরনের আন্দোলনগুলো কেবল কৌতুক নয়, বরং সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও, এই ডিজিটাল ব্যঙ্গচিত্রগুলো তার রাজনৈতিক যোগাযোগের চিরাচরিত ধারাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

পরিশেষে বলা যায়, ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা ও রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি এই গেমগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নতুন হাতিয়ার। এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, তরুণ প্রজন্ম এখন আর কেবল প্রথাগত প্রতিবাদের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং প্রযুক্তির সহায়তায় তারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যঙ্গ করার পাশাপাশি নিজেদের দাবিগুলোকেও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ডিজিটাল কন্টেন্ট ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, এটি নিশ্চিত যে সরকার ও জনগণের মধ্যকার যোগাযোগের দূরত্ব কমিয়ে আনার পরিবর্তে এই প্রযুক্তিগত ব্যবধান আরও প্রকট হয়ে উঠছে। প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে বেরিয়ে আসা এই নতুন প্রজন্মের এই কৌশল আগামী দিনের ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator