ছাত্রাবাসের অভাবে ভোগান্তিতে আমতলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ছাত্রাবাসের অভাবে ভোগান্তিতে আমতলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা..

ফরিদ হোসেন খিজির avatar   
ফরিদ হোসেন খিজির
ছাত্রাবাসের অভাবে ভোগান্তিতে আমতলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা..
ছাত্রাবাসের অভাবে ভোগান্তিতে আমতলী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা..
ছবি: সংগৃহীত
****
বরগুনা জেলার আমতলীতে

দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আমতলী সরকারি কলেজে ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আবাসন ব্যবস্থার অভাবে কলেজের শত শত শিক্ষার্থী দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে কিংবা শহরের বেসরকারি মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে আর্থিক খরচও।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে আমতলী কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অঞ্চলের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শুরু থেকেই দূর-দূরান্তের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে শুরু করেন। তাদের সুবিধার্থে ১৯৭২ সালে ৪০ আসনের একটি টিনের ছাত্রাবাস তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ২০১৫ সালের বর্ষা মৌসুমে সেটি সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি পরিত্যক্ত সেই জায়গাটি সংস্কার করে শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে ছাত্রাবাসটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. জালাল উদ্দিন জানান, “আমি ৮৬, ৮৭ ও ৮৮ সালে তিন বছর এই ছাত্রাবাসের সুপার ছিলাম। তখন কোনো আসন খালি থাকত না। দূর-দূরান্তের ছাত্ররা এখানে থেকে পড়াশোনা করত বলে শিক্ষার মানও ভালো ছিল। ছাত্রাবাসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, “কলেজে ছাত্রাবাস না থাকায় প্রতিদিন বাড়ি থেকে হেঁটে এসে ক্লাস করতে হয়। শহরে মেসে থেকে পড়াশোনা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই।” হলদিয়া থেকে আসা জিয়া, মরিচবুনিয়া গ্রামের জাহিদ ও টেপুরা গ্রামের হাসানও একই সমস্যার কথা জানিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি জানান।

আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. ইমরান খান বলেন, “গরিব ও দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী কলেজে ছাত্রাবাস নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।”

কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও আমতলী উপজেলা সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. হায়াতুজজামান মিরাজ জানান, সাধারণ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে একটি ছাত্রাবাস গড়ে তোলা প্রয়োজন । 

আমতলী সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি মোঃ ফরিদ হোসেন খিজির জানান,সাধারণ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে একটি ছাত্রাবাস গড়ে তোলা প্রয়োজন মনে করছি। 

আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডঃ মো. জামাল হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কলেজে আবাসন ব্যবস্থা থাকা অতি জরুরি। বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।”

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator