যশোরে বিষপানের পর বাঁওড়ে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যশোরে বিষপানের পর বাঁওড়ে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

রাসেল মাহমুদ avatar   
রাসেল মাহমুদ
যশোরে বিষপানের পর বাঁওড়ে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
যশোরে বিষপানের পর বাঁওড়ে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
ছবি: সংগৃহীত
****

যশোরের মণিরামপুরে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের পর বাঁওড়ের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সেলিম জাহাঙ্গীর (২৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।

গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ঝাঁপা বাঁওড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে বাঁওড়ের বিপরীত পাড়ে একটি পার্কের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সেলিম জাহাঙ্গীর উপজেলার খালিয়া গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন চা-বিক্রেতা ছিলেন।

খবর পেয়ে রাতেই মণিরামপুর থানা-পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য সেলিমের লাশ হেফাজতে নিয়েছে।

নিহতের শ্বশুরপক্ষের আত্মীয় খাইরুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে খালিয়া গ্রামের আসমত আলীর ছেলে সেলিমের সাথে তার ভাগ্নির বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে গত এক বছর ধরে তারা পৃথক থাকলেও তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি।

তিনি আরও জানান, প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে সম্প্রতি শার্শার নাভারণ এলাকায় আরেকটি বিয়ে করেন সেলিম। দুদিন আগে এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি নাভারণে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের লোকজন সেলিমকে লাঞ্ছিত ও আটকে রাখে। খবর পেয়ে রোববার সেলিমের পরিবারের লোকজন নাভারণে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে সেলিমের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

বাড়ি ফেরার পথে বিকেলে সাথের লোকজনকে বিদায় দিয়ে রাজগঞ্জ বাজারে নেমে পড়েন সেলিম। পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে বিষ কিনে ঝাঁপা বাঁওড়ের ভাসমান সেতুর ওপর গিয়ে তা পান করেন এবং পানিতে ঝাঁপ দেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় বাঁওড়ের পাড়ে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

খাইরুল ইসলাম বলেন, সেলিমের হাতে বিষের বোতল ও বাঁওড়ে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি আশপাশের কয়েকজন দেখেছিলেন। তবে তারা ভেবেছিলেন সেলিম গোসল করার জন্য পানিতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ কারণে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে বাধা দেননি।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

Nessun commento trovato


News Card Generator