বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বাতিঘর অধ্যক্ষ শহীদ খান: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বাতিঘর অধ্যক্ষ শহীদ খান: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বাতিঘর অধ্যক্ষ শহীদ খান: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন..
বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বাতিঘর অধ্যক্ষ শহীদ খান: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ খান দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য ও সমাজসেবায় যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্..

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ঝাঞ্জাইল গ্রামের কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ খান, যিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহে শহীদ খান হিসেবে সমধিক পরিচিত, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৭২ সালে জারিয়া ঝাঞ্জাইল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৬ সালে গৌরীপুর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া কলেজে অধ্যাপনা এবং পরবর্তী দশ বছর পূর্বধলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাঁর কর্মজীবন মূলত শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজ সংস্কারের এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, যা তাঁকে স্থানীয় পর্যায়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শহীদ খানের জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ, যা ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে বিকশিত হয়েছিল। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপস্থাপনা, অভিনয় ও গ্রন্থনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে মুকাভিনয় শিল্পী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ টাউন হল পর্যন্ত তাঁর একক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তাঁর রচিত ও নির্দেশিত নাটকগুলোর মধ্যে ‘কোন এক কুদ্দুস’, ‘ন্যায় ন্যায্য’ ও ‘ফুলবাড়িয়ার বাসযাত্রী’ সামাজিক অসঙ্গতি ও বাস্তবতাকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা মনে করেন, শহীদ খানের নাট্যচর্চা কেবল বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছিল সমাজের কুসংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ, যা নব্বইয়ের দশকের নাট্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

সাংস্কৃতিক ও শিক্ষকতা জীবনের সমান্তরালে শহীদ খান সাংগঠনিক ও সমাজসেবামূলক কাজেও ছিলেন সমানভাবে তৎপর। ১৯৭২ সালে মালঞ্চ সংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের দেশপ্রেম ও সমাজসেবায় নিয়োজিত করার যে ভিত্তি তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা আজও স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া নিজ উদ্যোগে ঝাঞ্জাইল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ও ঝাঞ্জাইল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁর এই উদ্যোগকে শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্য জমিদান এবং রিকশাচালকদের মতো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা প্রমাণ করে যে, তিনি একজন প্রকৃত জনহিতৈষী ও সমাজ সংস্কারক।

পরিশেষে, অধ্যক্ষ শহীদ খানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের দলিল নয়, বরং এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের এক সমন্বিত প্রয়াস। তাঁর ছেলে অমিত খান ৪৫তম বিসিএসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দিয়ে বাবার আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করছেন, যা প্রমাণ করে যে তাঁর পারিবারিক মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মেও বিস্তৃত। বর্তমান অস্থির ও প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শহীদ খানের মতো ব্যক্তিত্বের জীবন ও কর্মের চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। স্থানীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এবং সমাজ গঠনে নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটির অবদান আগামী দিনেও বৃহত্তর ময়মনসিংহের শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক দিশারী হয়ে থাকবে বলে সচেতন মহল মনে করে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator