সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ভাসলেন বুয়েট প্রকৌশলী থেকে শিক্ষক হওয়া নায়লা সারাফ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ভাসলেন বুয়েট প্রকৌশলী থেকে শিক্ষক হওয়া নায়লা সারাফ..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ভাসলেন বুয়েট প্রকৌশলী থেকে শিক্ষক হওয়া নায়লা সারাফ..
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ভাসলেন বুয়েট প্রকৌশলী থেকে শিক্ষক হওয়া নায়লা সারাফ..
ছবি: সংগৃহীত
বুয়েটের মেধাবী প্রকৌশলী থেকে শিক্ষকতায় আসা নায়লা সারাফের সাত বছরের নিরলস প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী, নেত্রকোনায় তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে সাহায্যের আশ্বাস।..

নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত সাত বছর ধরে এক ব্যতিক্রমী শিক্ষাব্রত পালন করে আসছেন বুয়েট থেকে পাস করা সাবেক প্রকৌশলী নায়লা সারাফ। গত ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তাঁর এই মানবিক উদ্যোগটি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়। ৩৪তম বিসিএস উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রচলিত বিলাসবহুল পেশা বা করপোরেট ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে তিনি বেছে নিয়েছেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার ব্রত। মূলত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলতে তিনি নিজ অর্থায়নে ও উদ্ভাবনী চিন্তায় বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ও শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করছেন, যা গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সরাসরি একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করেন, যেখানে নায়লা সারাফের এই নিভৃতচারী ও কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডকে দেশ ও দশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উৎসাহ ও সরাসরি সহযোগিতার আশ্বাস তাঁর আগামী দিনের পথচলাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নায়লা সারাফের এই যাত্রাপথ কেবল ব্যক্তিগত আত্মত্যাগের গল্প নয়, বরং দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার একটি সফল মডেল। জনতা ব্যাংকের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন শিক্ষকতাকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অভিভাবকদের মতে, নায়লা সারাফ কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তাতে ঝরে পড়া শিশুর হার অনেকাংশেই কমেছে। তাঁর উদ্ভাবিত ডিজিটাল কনটেন্টগুলো শিশুদের শেখার আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সাধারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রচলিত পাঠদান পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, আগে যে শিশুরা স্কুলে আসতে অনীহা প্রকাশ করত, নায়লা ম্যাডামের ক্লাসের পর তারা এখন প্রতিদিন আগ্রহ নিয়ে স্কুলে আসে, যা নেত্রকোনার মফস্বল এলাকায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

এদিকে নায়লা সারাফের এই উদ্যোগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাপত্র পাওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নায়লা সারাফের মতো শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো প্রাথমিক শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ এখন তাঁর উদ্ভাবিত ডিজিটাল কনটেন্ট ও পাঠদান পদ্ধতিকে জেলার অন্যান্য স্কুলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। নায়লা সারাফ নিজে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতি তাঁকে কেবল আবেগাপ্লুত করেনি, বরং দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে তাঁর এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে চান এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে নেত্রকোনার প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত শিশু যাতে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

পরিশেষে, একজন প্রকৌশলীর শিক্ষকতায় আসার এই সিদ্ধান্ত প্রচলিত ক্যারিয়ার সচেতন সমাজের জন্য একটি বড় প্রশ্ন এবং একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী উত্তর। নায়লা সারাফের এই দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে, মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সরকারি কাঠামোর ভেতর থেকেও শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল নেত্রকোনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি সারা দেশের শিক্ষকরা অনুসরণ করেন, তবে জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য অর্জন আরও সহজতর হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি সমর্থন ও সাহচর্য আগামী দিনে আরও অনেক মেধাবীকে দেশসেবায় ও শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে এক অনন্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator