রাণীশংকৈলে জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির তাগিদ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাণীশংকৈলে জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির তাগিদ

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
রাণীশংকৈলে জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির তাগিদ
রাণীশংকৈলে জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির তাগিদ
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও মহড়ার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও মহড়ার মধ্য দিয়ে দুর্যোগকালীন ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের বার্তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় হাইস্কুল মাঠে সমাপ্ত হয়। দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুর্যোগের সময় করণীয় ও আগাম সতর্কবার্তা অনুসরণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাঠামোর অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দুর্যোগের সময় ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ের প্রস্তুতির অভাবকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুর্যোগের সময় কার্যকর তথ্যের অভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ কেবল প্রাকৃতিক কোনো ঘটনা নয় বরং এর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তাই সঠিক প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি ও অজ্ঞতা কাজ করে তা দূর করা একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে দুর্যোগের আগাম সংকেত পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি পরিবার তাদের সম্পদ ও জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশলগত মহড়া প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষকে দুর্যোগকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করেছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি নিরসনে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার ও জরুরি অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা হবে, যাতে সংকটের মুহূর্তে দ্রুততম সময়ে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

দুর্যোগ প্রশমন দিবস কেন্দ্রিক এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাণীশংকৈল উপজেলার সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সম্মিলিত প্রয়াস। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের ধরন ও তীব্রতা যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিয়মিত মহড়া যাতায়াত ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুর্যোগ সহনশীল সমাজ বিনির্মাণ এবং প্রতিটি নাগরিককে দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা আগামী দিনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

No comments found


News Card Generator