অক্টোবর ২০২৬ মাসব্যাপী কেন্দ্র ঘোষিত দাওয়াতি ও সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরগুনা পুলিশ লাইন স্কুলে প্রচারণামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই বিশেষ মাসটির উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে সংগঠনের আদর্শিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন সদস্যদের সংগঠনের কাতারে সামিল করা। বরগুনা জেলা শাখার আয়োজনে পরিচালিত এই কার্যক্রমে সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসলামি মূল্যবোধের চর্চা প্রচার করাই ছিল এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আদর্শিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার প্রয়াস চালিয়েছে সংগঠনটি।
দাওয়াতি কার্যক্রম চলাকালীন বরগুনা পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসলামের সুমহান আদর্শ এবং নৈতিক জীবন গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, বর্তমান সময়ের অবক্ষয় রোধে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা প্রদান অপরিহার্য। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে তাদের সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়ছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা বজায় রেখে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রচার চললেও, তা যেন কোনোভাবেই দলীয় রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি, এটি কেবল একটি আদর্শিক প্রচারণার অংশ এবং এর মাধ্যমে তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বরগুনা জেলা শাখার দায়িত্বশীলরা জানান, কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী তারা মাসব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের কার্যক্রমের অনুমতি বা এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক অবস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষাঙ্গনে যে কোনো ধরনের সংগঠনের প্রচারণার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করাটা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি উঠেছে সব মহল থেকে।
সামগ্রিকভাবে, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের এই দাওয়াতি মাস ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বরগুনার মতো জেলা শহরগুলোতে তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজস্ব আদর্শ বিস্তারের মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের আদর্শিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে ছাত্র রাজনীতির ধারায় কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদর্শিক চর্চার ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।