গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় বরগুনা জেলা স্কুলে একটি বিশেষ দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলমান মাসব্যাপী দাওয়াতি ও সদস্য সংগ্রহ অভিযানের ১৩তম দিনে এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়। মূলত শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসলামের আদর্শ প্রচার এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বরগুনা জেলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কার্যক্রমে সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এই কার্যক্রমটি মূলত সংগঠনের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার একটি অংশ, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এ ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় ও আদর্শিক সচেতনতা তৈরির দাবি করেছে।
অভিযান চলাকালীন সময়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রচারপত্র তুলে দেওয়া হয় এবং ইসলামের সুমহান আদর্শের ওপর আলোকপাত করা হয়। উপস্থিত ভুক্তভোগী বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছে, ক্লাসের স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে এ ধরনের রাজনৈতিক বা আদর্শিক প্রচারণার মুখোমুখি হওয়া কিছুটা অপ্রত্যাশিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরের চাপে না রাখাই বাঞ্ছনীয়। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতেই এই দাওয়াতি কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কতজন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে বা কার্যক্রমের সামগ্রিক প্রভাব কী, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা না হলেও সংগঠনটি তাদের তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন থাকলেও, এক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক বা আদর্শিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলে তা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক মহলে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দাবি, তারা কোনো ধরনের জোর জবরদস্তি নয়, বরং স্বেচ্ছায় ইসলামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান নিয়েই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা, যাতে করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত না হয়।
আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। বরগুনা জেলাসহ সারা দেশে তাদের এই মাসব্যাপী দাওয়াতি ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান শিক্ষা খাতের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক রাজনীতির প্রভাবকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের প্রসার ঘটলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হবে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক উপস্থিতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে নির্দেশ করছে, যা আগামী দিনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানামুখী প্রভাব ফেলতে পারে।