জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি: মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে জোরালো আওয়াজ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি: মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে জোরালো আওয়াজ..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি: মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে জোরালো আওয়াজ..
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি: মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে জোরালো আওয়াজ..
ছবি: সংগৃহীত
‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ভার উন্নত দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে ঋণ নয়, বরং ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়..

মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দুর্যোগ সহনশীল সমাজ বিনির্মাণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। সকাল ১০টায় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি মোংলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে, যা স্থানীয়দের মাঝে দুর্যোগ প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে আয়োজিত মহড়ায় দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রাথমিক প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়, যা দুর্যোগপ্রবণ এ জনপদের মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

আলোচনা সভায় বক্তারা মোংলা অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম শিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং নদীভাঙনের কবলে পড়ে এখানকার জনজীবন যে ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে, তা উঠে এসেছে আলোচকদের বক্তব্যে। ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মো. নূর আলম শেখসহ অন্যান্য বক্তারা দাবি করেন যে, উপকূলীয় মানুষ প্রতিনিয়ত সম্পদ ও জীবন হারাচ্ছে, যার নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বক্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষকে। তারা অভিযোগ করেন, দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতির ওপর আলোকপাত করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ও কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাসে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছেন। আলোচনা সভায় বক্তারা উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ কোনো অনুদান বা ঋণ নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার। উন্নত দেশগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত ছাড় করতে হবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। ব্র্যাক, ফ্রেন্ডশিপ, উত্তরণ ও কেয়ার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণ এই দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মোংলায় পালিত এই দিবসের কর্মসূচি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে উপকূলীয় মানুষের একটি সম্মিলিত প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মহলের টনক নড়ানোর এই প্রয়াস ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে উপকূলকে বাঁচাতে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যা স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে স্থবির করে দিতে পারে। তাই দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়তে স্থানীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বজায় রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

コメントがありません


News Card Generator