শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি শুরু | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি শুরু

Satyajit Das avatar   
Satyajit Das
শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি শুরু
শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি শুরু
ছবি: সংগৃহীত
উপকারভোগীদের দেওয়া কার্ডে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপেই (TakaPay) পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকের এ..

নারীর ক্ষমতায়ন,অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। এ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। এর ভিত্তিতে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর আশীদ্রোন, কালাপুর ও সিন্দুরখানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মনোনীত কর্মীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ধাপের প্রশিক্ষণও অনুষ্ঠিত হবে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা,আর্থসামাজিক অবস্থা এবং নির্ধারিত অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করবেন। পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে সুপারভাইজাররা তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজারদের মধ্যে রয়েছেন আশীদ্রোন ইউনিয়নের এম এ করিম, কালাপুর ইউনিয়নের সাদিকুর রহমান ও সিন্দুরখান ইউনিয়নের আব্দুল গফুর। তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শ্রাবণী দাশ, ফাতেমা বেগম, মো. আল আমিন, মো. আফজাল মিয়া, রাফিয়ান আহমেদ, ফারজানা বেগম, মোছা. ফারজানা স্বর্ণা, প্রীতি নুনিয়া, রুমি আক্তার, মো. কামরুল হাসান তালুকদার, শাফিয়া আক্তার কলি ও মো. সুমন মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে উদ্বোধন করা হয়। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী সব এলাকার পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডিজিটাল ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসাবের সুবিধার্থে প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার ধরে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা এবং কর্মীদের কার্যক্রম তদারকির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কার্ড পেলেই সবাই ভাতা পাবেন না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

এ পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত,মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত, এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম হলে নারী পরিবারপ্রধানকে ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে ভাতা দেওয়া হবে প্রথম তিনটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানদের।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী,২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উপকারভোগীদের দেওয়া কার্ডে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপেই (TakaPay) পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি,পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জোরদার এবং আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। তবে এর সফল বাস্তবায়নে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, নির্ভুল উপকারভোগী নির্বাচন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাইয়ের মাধ্যমে তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ পরিচালিত হবে।

没有找到评论


News Card Generator