মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সই.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সই..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সই..
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সই..
ছবি: সংগৃহীত
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সাথে ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।..

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) সাথে ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে যুগ্মসচিব আলিয়া মেহের এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফেনজঝুন টিয়ান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল অংকের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মূলত বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি সঞ্চারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মোংলা বন্দরের আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও কনটেইনার হ্যান্ডেলিং সক্ষমতা বাড়ানোর। বর্তমান বাস্তবতায় বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়, যার ফলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, ডেলিভারি ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সংস্থান না থাকায় মোংলা বন্দর এতদিন চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা সামগ্রিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছিল। নতুন এই বিনিয়োগের ফলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় আমদানিকারকরা।

চুক্তি অনুযায়ী চীন সরকার এই প্রকল্পের জন্য ২ শতাংশ সুদের হারে নমনীয় ঋণ বা সফট লোন প্রদান করবে, যা দেশের অর্থনৈতিক খাতের জন্য বেশ সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঋণ পরিশোধের শর্তাবলীতে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অপারেশনাল মুনাফা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদান করবে। এ বিষয়ে সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন যে, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে তদারকি কমিটি কাজ করবে। অন্যদিকে, চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পেরে তারা আশাবাদী। প্রশাসনিক পর্যায়ে এই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজের নকশা চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন কেবল অবকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতের আমূল পরিবর্তনের একটি পূর্বশর্ত। এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তি ঘটলে বন্দরটি এশীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তবে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিশ্চিত করতে হলে বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল তৈরির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে মোংলা বন্দর যদি তার সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারে, তবে তা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী অবদান রাখবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বন্দরের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator