সৌদি আরবে হুথি হামলা: ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় পূর্ণ সামরিক সহায়তার ঘোষণা পাকিস্তানের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সৌদি আরবে হুথি হামলা: ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় পূর্ণ সামরিক সহায়তার ঘোষণা পাকিস্তানের..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
সৌদি আরবে হুথি হামলা: ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় পূর্ণ সামরিক সহায়তার ঘোষণা পাকিস্তানের..
সৌদি আরবে হুথি হামলা: ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় পূর্ণ সামরিক সহায়তার ঘোষণা পাকিস্তানের..
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের কিং খালিদ ও আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা চুক্তির আওতায় রিয়াদকে সর্বাত্মক সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।..

সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলায় ছয়জন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একে জঘন্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী দেশটির মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের অটল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনো আঘাতকে পাকিস্তান নিজের ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করে এবং এর সমুচিত জবাব দিতে বদ্ধপরিকর।

ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে চালানো এই হামলা কেবল অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়, বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি সরাসরি হুমকি। হামলায় হতাহতদের মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও পাকিস্তানি প্রবাসী শ্রমিকরা থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হুথি বিদ্রোহীদের এই ধরনের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপদ জীবনযাত্রাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রুট ডাইনামিক্স এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় পাকিস্তান সবসময়ই একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে, যা এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা সামনে এসেছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর বহিঃশত্রুর হামলা হলে অন্য দেশগুলো সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, এই ত্রিপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষা করা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব, তাই এই পবিত্র শহরগুলোর দিকে হাত বাড়ানো কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যদিও পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা বলছে, তবুও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি তারা আড়াল করেনি।

পরিশেষে, হুথি বিদ্রোহীদের এই সাম্প্রতিক আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে। পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থান এবং সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আঞ্চলিক সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান একদিকে যেমন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করছে, অন্যদিকে তা হুথি বিদ্রোহীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা জোট কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়, যা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে প্রতীয়মান হয়।

Nessun commento trovato


News Card Generator