বাগেরহাটে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজছে ডিবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাগেরহাটে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজছে ডিবি..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
বাগেরহাটে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজছে ডিবি..
বাগেরহাটে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজছে ডিবি..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. নাইম মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, তবে কৌশলে পালিয়ে গেছে চক্রের অন্য সদস্যরা।..

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর গ্রামে গত রবিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশেষ অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মো. নাইম মোল্লা (২৫) নামে এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআই মো. এমরানুর কবীরের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাইমের সঙ্গীরা মোটরসাইকেলযোগে এবং পায়ে হেঁটে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে পরিচালিত এই অভিযানে ধৃত নাইম নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার ডুমুরিয়া গ্রামের মো. মোস্তাইন মোল্লার ছেলে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত মাদক কারবারির চক্র যারা দীর্ঘদিন ধরে এই রুট ব্যবহার করে মাদকের চালান পাচার করে আসছিল। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম এবং বাজারমূল্য আনুমানিক দেড় লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে এই মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত নাইম মোল্লার কাছ থেকে জব্দকৃত আলামত কেবল ইয়াবাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা এস এ পরিবহনের দুটি পার্সেল স্লিপ মাদক পাচারের একটি নতুন ও ভয়ংকর কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই স্লিপগুলো নির্দেশ করছে যে, মাদক কারবারিরা এখন কুরিয়ার সার্ভিসকে তাদের অবৈধ পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উদয়পুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ধৃত নাইম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও তার সহযোগীদের নাম ও তাদের নেটওয়ার্কের গভীরতা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনের চক্রের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোল্লাহাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশি তদন্তে ইতিমধ্যে পলাতক দুজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চক্রটির সাথে আন্তঃজেলা কোনো মাদক সিন্ডিকেটের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মাদকের বিস্তার রোধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, বরং মাদক সরবরাহের মূল হোতা এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক পাঠানোর পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। পুলিশের চলমান এই অভিযান মাদক সিন্ডিকেটগুলোর ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, তা নিয়ে এখন সংশয় ও প্রত্যাশা উভয়ই কাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বাগেরহাটের সীমান্তবর্তী এবং অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। নাইম মোল্লার গ্রেপ্তারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মাদক কারবারিরা এখন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদি এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না যায়, তবে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলটি মাদক চোরাচালানের একটি নিরাপদ করিডোরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েই যায়। পরিবহন খাত ও কুরিয়ার সার্ভিসের মতো সেবাগুলো যাতে কোনোভাবেই অপরাধীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর মনিটরিং এবং তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator