রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও নষ্ট করার ঘটনায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।..

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে অঙ্কিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও তা নষ্ট করার অপচেষ্টার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির দেয়াল থেকে হাতেনাতে আটক করার পর রোববার তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আ এন এম আয়াস, মো. সাকিবুল হাসান, মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমি। শাহবাগ থানা পুলিশের দায়ের করা এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০খ, ১৫৩ক ও ২৯৫ক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মূলত রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের শামিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিল্পকলা একাডেমির মতো একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক আচরণ কেবল শিল্পকর্মের অবমাননা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং শিল্পকলা একাডেমির সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিশ্বকবির গ্রাফিতির অবয়ব বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন, যা সাধারণ পথচারী ও শিল্পমনা মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তদের আচরণ ও উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ শিল্পকর্মের সীমানা ছাড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক বিদ্বেষ ছড়ানো। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এ ধরনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির একটি অপপ্রয়াস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জাতীয় প্রতীকের ওপর এমন আঘাত রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে কুঠারাঘাতের শামিল। ভুক্তভোগী সাংস্কৃতিক মহল মনে করছে, গ্রাফিতি বিকৃতির মাধ্যমে তারা কেবল শিল্পকর্ম নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, যা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তে আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও ঘটনার পর গ্রেপ্তারকৃতদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আত্মপক্ষ সমর্থন পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। শিল্পকলা একাডেমির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে; জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার দেয়ালে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কীভাবে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাবি তুলেছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো গোষ্ঠী এ ধরনের সাহস দেখাতে না পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, কেবল গ্রেপ্তারই নয়, বরং নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এই ঘটনার ফলে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্বস্তি ও শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তিত্বের অবয়ব বিকৃতির চেষ্টা সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি আরও কঠোর করা প্রয়োজন। জননিরাপত্তা ও জাতীয় ঐতিহ্যের সুরক্ষায় এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দিকে এখন পুরো দেশের নজর রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধের ওপর এই আঘাতের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator