ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গোডাউনে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গোডাউনে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ..

Md Minhajul Islam avatar   
Md Minhajul Islam
ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গোডাউনে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ..
ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গোডাউনে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
****

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গোডাউন ভেঙে প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোডাউনের জায়গা টিন দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে গোডাউন ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করলেও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছোট ভাই। 

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ ও অভিযুক্ত সহিদুল ইসলাম লিটন আপন ভাই। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাঁদের বাবা মৃত মোহাম্মদ রোস্তম আলী। তাঁদের পরিবারে পাঁচ ভাই ও চার বোন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৪ সালে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধপূর্ণ জায়গার সড়কসংলগ্ন অংশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন লিটন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের চাপে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দেয়ালটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় পারিবারিক সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, ১৯৭৮ সালে জমি কিনে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। একই দাগ-খতিয়ানে তাঁর ছোট ভাই লিটনও জমি কিনেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে ঐ জমিতে নির্মিত গোডাউনে ঠিকাদারি কাজের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ করতেন। গোডাউনে ৭, ৮ ও ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বান ঢেউটিন, ৪ ফুট বাই ৮ ফুট আকারের প্রায় দেড় হাজার কেজি প্লেইন শিট, বিভিন্ন মাপের এমএস শাটার, ভাইব্রেটর মেশিন, পাম্প, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো।

হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে গোডাউন ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ঘরটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে সেখানে সংরক্ষিত মালামালও খুঁজে পাননি। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে উপস্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ অবস্থায় আপন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ এবং ঘটনার পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর স্ত্রীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাফিজুর রহমানের ভোগদখলে ছিল বলে তাঁরা দেখে আসছেন। তাঁদের দাবি, শুক্রবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জন লোক মিস্ত্রি নিয়ে এসে গোডাউনটি ভেঙে দেন। তবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা সরাসরি কী দেখেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, হাফিজুর রহমান ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক কারণে তিনি বাড়ির বাইরে থাকেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে সহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, তাঁর বড় ভাই হাফিজুর রহমান দুই বিঘা কিনে এবং তিনি এক বিঘা জমি কিনেছেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁদের বাবা ওই জমিতে গোডাউন নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে শ্রমিকেরা খাওয়া-দাওয়া করতেন। বাবার জীবদ্দশায় জমি মেপে ভাগ করে নেওয়ার কথা থাকলেও ভাই আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি হওয়ায় জমি ভাগ করে দেয়নি।

পরবর্তীতে ভাই হাফিজুর নিজ ইচ্ছায় জমি মেপে বের করে দেয় তবে গোডাউনটি সরিয়ে নেয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। সাত-আট মাস আগেও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। এরপরও গোডাউন সরানো না হওয়ায় তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেটি সরিয়ে দিয়েছেন। এ সময় মালামাল তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator