বাগেরহাটের রামপালে ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার যাত্রা: প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাগেরহাটের রামপালে ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার যাত্রা: প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
বাগেরহাটের রামপালে ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার যাত্রা: প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত..
বাগেরহাটের রামপালে ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার যাত্রা: প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের রামপালে প্রথমবারের মতো চালু হলো ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন কেন্দ্র, যা দক্ষিণাঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের ঢাকা বা বড় শহরের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে..

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়ায় শনিবার ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। মূলত দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ক্যানসার শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা মূল্যায়ন সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষায়িত কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এতদিন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে কেমোথেরাপির মতো জটিল চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ছুটতে হতো, যা শারীরিক ধকলের পাশাপাশি দরিদ্র রোগীদের জন্য চরম আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ক্যানসার সেবার একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার শনাক্তকরণের সুযোগ না থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক রোগী রোগ নির্ণয়ের আগেই জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যান, যার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এখন নিয়মিত স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসার সাফল্যের হার বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়দের মতে, বাড়ির কাছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা চালু হওয়ায় যাতায়াত খরচ ও আবাসন সংকটের মতো ভোগান্তিগুলো থেকে তারা রেহাই পাবেন। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড এবং ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসাসেবার মানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথ প্রশস্ত করছে। প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্ক্রিনিং ও সচেতনতা তৈরির কাজটি করায় রোগীরা এখন ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ অঞ্চলের ১০০ জন হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল ক্যানসার রোগীর চিকিৎসার ব্যয় ব্যক্তিগত অর্থায়নে বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের মধ্যে কেন্দ্রটিকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও জবাবদিহিমূলক মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এডুকেশন সোসাইটির যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসা নয়, বরং ক্যানসার গবেষণা ও সচেতনতা সৃষ্টির একটি জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সিভিল সার্জনসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টেকসই সেবার মান বজায় রাখতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে করে স্থানীয়রা দীর্ঘমেয়াদে এই সেবার সুফল ভোগ করতে পারেন।

২০০৭ সাল থেকে রামপালে স্তন ক্যানসার গবেষণায় নিরলস কাজ করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন বহুমুখী ক্যানসার সেবায় নিজেদের সম্পৃক্ত করায় দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মডেলটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একই ধরনের ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হবে। ক্যানসার চিকিৎসার মতো ব্যয়বহুল ও জটিল সেবা যখন স্থানীয় পর্যায়ে সহজলভ্য হয়, তখন তা কেবল জীবন বাঁচায় না, বরং একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার হাত থেকেও রক্ষা করে। পরিশেষে, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের যে ধারা সূচিত হলো, তা আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য খাতে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে টিকে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

没有找到评论


News Card Generator