মাধবপুরে ঋণের টাকায় টমেটো চাষ, ওষুধে নষ্ট ২৫০ শতক ক্ষেত | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মাধবপুরে ঋণের টাকায় টমেটো চাষ, ওষুধে নষ্ট ২৫০ শতক ক্ষেত

Nahid Hasan avatar   
Nahid Hasan
মাধবপুরে ঋণের টাকায় টমেটো চাষ, ওষুধে নষ্ট ২৫০ শতক ক্ষেত
মাধবপুরে ঋণের টাকায় টমেটো চাষ, ওষুধে নষ্ট ২৫০ শতক ক্ষেত
ছবি: সংগৃহীত
****

 

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ঋণ করে ২৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের টমেটো চাষ করেছিলেন কৃষক গিরিধন সরকার। ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ ও সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পোকামাকড় দমনের ওষুধ প্রয়োগের পরই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো টমেটো ক্ষেত। কৃষক পরিবারের দাবি, এতে প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফসল নষ্ট হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গিরিধন।
ঘটনাটি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের।
কৃষক পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডার থেকে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের পরামর্শে পোকামাকড় দমনের ওষুধ কেনেন গিরিধন। জমিতে ওষুধটি প্রয়োগের পরপরই টমেটো গাছ সাদা হয়ে যেতে শুরু করে। পরে অনেক গাছের গোড়ায় পচন ধরে এবং পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ ও ধার করে টমেটো চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন গিরিধন। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক জমিতে কাজ করতেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফসল বিক্রির কথা থাকলেও তার আগেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়ে ইউএনও এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গিরিধনের ভাই ও সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বিক্রেতাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, জমিতে কোনো ওষুধ প্রয়োগের আগে বোতলের লেবেল ও নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফসল হারিয়ে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে গিরিধন পরিবার। ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

Geen reacties gevonden


News Card Generator