ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৫৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৫৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৫৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি..
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৫৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি..
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ৫৫টি মণ্ডপের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রস্তুতি সভায় উপজেলার ৫৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় পূজা চলাকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের আনন্দকে নিরবচ্ছিন্ন রাখাই এই সভার মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

সভায় স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট মণ্ডপগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগী ও আয়োজকদের ভাষ্যমতে, অতীতে পূজার সময় অনেক মণ্ডপেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে, যা সাধারণ দর্শনার্থীদের মনে ভীতি সঞ্চার করে। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু পুলিশি টহল যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রতিটি মণ্ডপে সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্গম বা জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় অবস্থিত মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা, যাতে নারী ও শিশুসহ সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশ নিতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে। রাণীশংকৈল থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রফিক জানিয়েছেন, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা প্রশাসনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি কমিটিগুলোও সজাগ থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আইন অমান্যকারী বা সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিশেষে, রাণীশংকৈলের এই নিরাপত্তা প্রস্তুতি কেবল একটি নির্দিষ্ট উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাও বহন করছে। পূজা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলার এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে তা ভবিষ্যতে স্থানীয় সকল ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় সচেতন মহলের সক্রিয় অংশগ্রহণ যদি মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই জনপদে একটি উৎসবমুখর ও ভীতিহীন পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করছে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator