শহীদ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে সরব রাশেদ খাঁন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শহীদ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে সরব রাশেদ খাঁন..

Abdullah Al Mamun avatar   
Abdullah Al Mamun
শহীদ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে সরব রাশেদ খাঁন..
শহীদ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে সরব রাশেদ খাঁন..
ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদিকে জামায়াত ও এনসিপি পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার ও বিতর্কিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।..

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু-পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, জামায়াত এবং এনসিপি (নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন দল) ওসমান হাদিকে জীবদ্দশায় যথাযথ সম্মান দেয়নি, বরং তাকে কোণঠাসা করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিল। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনের সময় ওসমান হাদির বিপরীতে রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে এনসিপি যে নাটকীয়তা সৃষ্টি করেছিল, তাকে হাদির প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, মৃত্যুর আগে যে ওসমান হাদিকে এই দলগুলো রাজনৈতিকভাবে বিষ মনে করত, আজ তাকেই নিজেদের আদর্শিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূতই নয়, বরং একজন শহীদ ব্যক্তিকে নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভুক্তভোগী ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকেও এই রাজনৈতিক চক্রান্তের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রাশেদ খাঁন জানান, হাদির ভাই ওমর হাদি বিভিন্ন সময় জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সচিব জুবায়েরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এবং হাদিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করার জন্য হুমকির বিষয়টিও সামনে এসেছিল। এনসিপি এবং জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ওসমান হাদিকে একটি ‘প্যাকেজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাদির বড় ভাইয়ের সাথে কথোপকথনের সূত্র ধরে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন যে, এমন এক সময়ে যখন কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছিল না, তখন নুর এবং হাদি একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সেই সম্পর্কের গভীরতাকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা ওসমান হাদির পরিবারের জন্য চরম পীড়াদায়ক ও অপমানজনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রাশেদ খাঁন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো ব্যক্তিবর্গ যখন শহীদ ওসমান হাদির লড়াইকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক জিয়াউর রহমানের চেয়ে শক্তিশালী হিসেবে অভিহিত করেন, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা বিএনপিকে বিভ্রান্ত করতে একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ তৈরি করছে। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যারা হাদিকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য জাতীয়তাবাদী শক্তিকে হেয় করা। একইসঙ্গে তিনি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে হাদির কবর দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কেরও অবসান চেয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি হাদি কখনোই নিজেকে জাতীয় কবির পাশে সমতুল্য করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেননি, বরং তার বাবার পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছাই ছিল তার শেষ চাওয়া। সুতরাং, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা অনৈতিক।

পরিশেষে, শহীদ ওসমান হাদিকে ঘিরে চলমান এই রাজনৈতিক মেরুকরণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশেদ খাঁনের মতে, ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত এবং এনসিপি তাদের গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের জন্য হাদির আত্মত্যাগকে ব্যবহার করছে, যা শেষ পর্যন্ত হাদির সার্বজনীন পরিচিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা এই ফাঁদে পা দেবেন না এবং শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে সৃষ্ট এই নোংরা রাজনীতি থেকে সব পক্ষ বিরত থাকবে। একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা কেবল জুলাই বিপ্লবের চেতনাকেই ক্ষুণ্ণ করবে না, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও আরও নিম্নগামী করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator