ইবির আরবী বিভাগে জরিমানা কাণ্ডে স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা, হেয় প্রতিপন্নের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইবির আরবী বিভাগে জরিমানা কাণ্ডে স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা, হেয় প্রতিপন্নের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে..

A R Khalid avatar   
A R Khalid
ইবির আরবী বিভাগে জরিমানা কাণ্ডে স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা, হেয় প্রতিপন্নের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে..
ইবির আরবী বিভাগে জরিমানা কাণ্ডে স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা, হেয় প্রতিপন্নের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে..
ছবি: সংগৃহীত
****

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্লাস না করায় জরিমানা আরোপকে কেন্দ্র করে স্থগিত রয়েছে মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা। জরিমানা আদায় করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগও উঠেছে বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। 

জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা। দুইটি পরীক্ষা শেষে জরিমানার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি না দিলে পরীক্ষা স্থগিত করে বিভাগটি। নির্ধারিত জরিমানা কম দিতে চাইলে শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কটূক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্লাস না করলে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হয়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর বিভাগ কর্তৃক জরিমানার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী ২১ জন শিক্ষার্থীর ৫ হাজার টাকা, ৩ শিক্ষার্থীর ৩ হাজার, ৭ শিক্ষার্থীর ২ হাজার, ১৬ শিক্ষার্থীর ১ হাজার এবং ১০ জন শিক্ষার্থীর ৫০০ করে মোট ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা জরিমানা করে বিভাগটি। পরে ১২ সেপ্টেম্বর ৫১০২ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ৫১০৩ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা শুরুর আগে বিভাগ থেকে জরিমানা পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়। তৎক্ষনাৎ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতাও দিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এসময় পরবর্তী পরীক্ষার পূর্বে জরিমানার টাকা দেবে মর্মে শিক্ষার্থীদের থেকে লিখিতও নেন শিক্ষকরা। 

সেই সময় বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম  কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেয় প্রতিপন্ন করলে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে বলে জানায় তারা। পরে বিভাগীয় সভাপতির রুমে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ত্যাগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ ও জরিমানা কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জরিমানার জন্য লিখিত নিতে আসলে এক নারী শিক্ষার্থী বাচ্চা প্রসবের কথা জানায়। এসময় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম তাকে বলেন, সংসারও করবা জরিমানাও দিবা না, এটা তো হবে না। এক শিক্ষার্থী তার পরিবার অসচ্ছল ও পরিবারের খরচও বহন করার কথা জানান, এসময় তাকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কি লিল্লাহ বোর্ডিং খুলে বসেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাইকে পড়ানো লাগবে? আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ– বাবা নেই ও পরিবার দেখভাল করতে হয় জানালে তাকে বলা হয়- পরিবার দেখভাল করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা ও পড়াশোনার কী প্রয়োজন? তবে এসব ঘটনায় ড. রফিকুল ইসলামের হয়ে বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি আমার শিক্ষার্থীদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। ওরাই আমার সম্পদ ও দেশের কারিগর। কোনো কটূক্তি করা হয়নি, ভুল তথ্যের কারণে বিষয়টি গুজবে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভুল শুধরে সঠিক পথ দেখানোই আমাদের দায়িত্ব।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি ড. আবদুস সালাম বলেন, 'এ বিষয়ে আমার নিজস্ব কোন মন্তব্য নেই।'

উল্লেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর ৫১০৩ নং কোর্সের পরীক্ষাসহ সকল পরীক্ষা অনিবার্যকারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত জানিয়ে নোটিশ দেয় বিভাগটি। পরে অন্য আরেক নোটিশে যাদের নিকট বিভাগের বকেয়া রয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- পরবর্তীতে সকল শিক্ষার্থী জরিমানা দিয়ে পরীক্ষা দিতে রাজি হলেও জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না বলে জানায় বিভাগটি।

Комментариев нет


News Card Generator