ভালুকা সরকারি পশু হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শিক্ষকের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভালুকা সরকারি পশু হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শিক্ষকের..

Shazzadul Alam Khan  avatar   
Shazzadul Alam Khan
ভালুকা সরকারি পশু হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শিক্ষকের..
ভালুকা সরকারি পশু হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শিক্ষকের..
ছবি: সংগৃহীত
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভালুকা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হাদিসুর রহমান খান।..

ভালুকা ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: নিজের পোষা বিড়ালের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভালুকা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হাদিসুর রহমান খান।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা সরকারি পশু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, ভ্যাকসিনের সরবরাহ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভালুকা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হাদিসুর রহমান খান। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের পোষা বিড়ালের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন।

ওই শিক্ষকের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পোষা বিড়ালের আঘাতজনিত সমস্যার চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য তিনি ভালুকা উপজেলা সরকারি পশু হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক বিড়ালটির পা ভেঙে গেছে বলে জানান। তবে হাসপাতালে এক্স-রে করার ব্যবস্থা না থাকায় আঘাতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাদিসুর রহমান খানের ভাষ্য, হাসপাতালে সরকারি ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে তা কিনে আনতে হয়। এরপর ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য তাঁকে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যেতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতেও তাঁকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একপর্যায়ে বিড়ালটি নিজেকেই ধরে রাখতে বলা হলে তিনি নিজেই সেটি ধরে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসককে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে হাসি-তামাশা ও ব্যক্তিগত আলাপে ব্যস্ত থাকতে দেখেছেন। এমনকি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকই তাঁকে বেসরকারি পশু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে দাবি করেন তিনি।

পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি পশু চিকিৎসকের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিড়ালের পা ভাঙেনি বলে জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এক্স-রে করানো হলে প্রতিবেদনেও পা ভাঙার প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করেন হাদিসুর রহমান খান।

এ ঘটনায় সরকারি পশু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা, ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে আঘাতপ্রাপ্ত প্রাণীর সঠিক চিকিৎসা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? সরকারি ভ্যাকসিন না থাকলে সেবাপ্রার্থীদের বাইরে থেকে তা কিনতে হবে কেন? আর একটি ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সেবাপ্রার্থীকে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরতে হলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব কী?

বার্তায় তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল জনগণের সম্পদ। এখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের করের টাকায় বেতন পান। তাই সেবাপ্রার্থীরা কোনো দয়া নিতে যান না; বরং নিজেদের অধিকার হিসেবে সেবা নিতে যান।

হাদিসুর রহমান খান ভালুকা উপজেলা সরকারি পশু হাসপাতালের সেবার মান তদন্ত, প্রয়োজনীয় এক্স-রে সুবিধা স্থাপন, সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে মানুষকে যেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য না হতে হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কারও প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, একজন সেবাপ্রার্থী ও করদাতা নাগরিক হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator