ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণ: এক যুগের অবসান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণ: এক যুগের অবসান..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণ: এক যুগের অবসান..
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণ: এক যুগের অবসান..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় চলচ্চিত্রের বহুমাত্রিক ও প্রভাবশালী অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃত্যুতে ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।..

ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময় অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর তাকে দ্রুত গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শেখর সালকার জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে এবং পথিমধ্যে দীর্ঘ সময় সিপিআর প্রদান সত্ত্বেও তাকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই অভিনেতা তার তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর, অনবদ্য অভিনয় শৈলী এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার মৃত্যুতে কেবল চলচ্চিত্র জগত নয়, বরং পুরো ভারতজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং অগণিত ভক্তরা গভীর শোকে মূহ্যমান। তার ছেলে মালহার পাটেকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তার বাবা শারীরিকভাবে না থাকলেও তার সামাজিক কাজের প্রতিশ্রুতি এবং মানবিক মূল্যবোধের আদর্শ তাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। গোয়া মেডিকেল কলেজে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ এয়াল অ্যাম্বুলেন্সে করে পুনেতে স্থানান্তর করা হয়। মহারাষ্ট্রের ডোনজে গ্রামে অবস্থিত তার নিজস্ব খামারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শিল্পীদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা এবং নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলিউড তারকা শাহরুখ খান তাকে একজন শিক্ষক ও পরামর্শদাতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া অনুপম খের ও অক্ষয় কুমারের মতো সহশিল্পীরা তার কর্মনিষ্ঠা এবং সততার কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অসামান্য প্রভাবের প্রতিফলন ঘটায়।

রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নানা পাটেকরের বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, নানা পাটেকরের অভিনয় দক্ষতা এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব ভারতীয় শিল্প জগতের এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। তার অভিনীত চরিত্রগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তার কর্মজীবনের বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষক কোমল নাহতা তার অভিনয়ের ধরণকে অনন্য হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি আপসহীন এবং স্পষ্টবাদী ছিলেন, যা অনেক সময় পরিচালকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও তার অসামান্য অভিনয় ক্ষমতার কারণে সবাই তার সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে থাকতেন।

১৯৭৮ সালে গামন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা নানা পাটেকর পারিন্দা, ক্রান্তিবীর এবং অগ্নি সাক্ষীর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। তার কর্মজীবনের পরিধি ছিল বিস্তৃত—একজন কুখ্যাত গ্যাংস্টার থেকে শুরু করে দেশপ্রেমিক নায়ক কিংবা নীরব চরিত্রের জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মারাঠি ও হিন্দি থিয়েটারেও তার সমান বিচরণ ছিল, যা তার সংলাপ প্রক্ষেপণ এবং মঞ্চের প্রতি গভীর টানকে স্পষ্ট করে। রাজনীতির মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দক্ষতা নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। একজন দক্ষ অভিনেতা, পরিচালক এবং লেখক হিসেবে নানা পাটেকর যে সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে অভিনয় জগতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতেও অনুভূত হবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator