অসলোতে প্রতীক্ষার প্রহর: ১২৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের অপেক্ষায় বিশ্ব.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অসলোতে প্রতীক্ষার প্রহর: ১২৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের অপেক্ষায় বিশ্ব..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
অসলোতে প্রতীক্ষার প্রহর: ১২৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের অপেক্ষায় বিশ্ব..
অসলোতে প্রতীক্ষার প্রহর: ১২৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের অপেক্ষায় বিশ্ব..
ছবি: সংগৃহীত
নরওয়ের অসলোতে আজ ঘোষিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার, যেখানে ২৮৭ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তি বা সংস্থাকে বেছে নেবে নোবেল কমিট..

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও বিতর্কিত সম্মাননা হিসেবে পরিচিত নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা আজ শুক্রবার নরওয়ের অসলোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ বছরের জন্য মোট ২৮৭ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মধ্যে অন্তত এক-চতুর্থাংশই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সংগঠন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী দল, ইউক্রেনে শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত সংস্থা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক আদালতের নাম সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। শান্তি পুরস্কারের ১২৫তম বার্ষিকীর এই বিশেষ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহে কমিটি কাকে বেছে নেয়, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দশকের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কমিটি সাধারণত বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার এবং মানবিক বিপর্যয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখা পক্ষগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় এ পর্যন্ত ১১২ জন ব্যক্তি ও ২৮টি সংস্থা এই পুরস্কার লাভ করেছে, তবে এবারের মনোনয়ন তালিকা এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম হয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সরাসরি মনোনয়ন প্রদানের সুযোগ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রবল হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অতীতে অ্যাডলফ হিটলারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়নের ঘটনা এই প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। ভেনেজুয়েলার মারিয়া করিনা মাচাদোর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্বীকৃতির পর নোবেল পদকের প্রতীকী ব্যবহারের বিষয়টিও এক ধরনের আইনি ও নৈতিক জটিলতা তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী বা মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, শান্তি পুরস্কারের মতো একটি উচ্চতর সম্মাননা যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত না হয়। মনোনয়নপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের গভীরতা এবং তাদের কাজের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব যাচাই করার ক্ষেত্রে কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক চাপের মুখেও শান্তির বার্তা প্রচার করে, তখন তাদের কাজের স্বীকৃতি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীকালে পুরস্কারের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কারের মানদণ্ড হিসেবে শান্তির স্থায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গত বছরগুলোতে দেখা গেছে, পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকায় নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সাম্প্রতিক ১৫ বছরে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে কমিটির মূল লক্ষ্য থাকে বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতা প্রশমনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। রেড ক্রস বা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানের একাধিকবার পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, কমিটি দীর্ঘমেয়াদী মানবিক কর্মকাণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীকে পুরস্কার না দেওয়ার আক্ষেপ বা যুদ্ধকালীন সময়ে পুরস্কার স্থগিত রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান কমিটি প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গ্রহণ করছে। ১২ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের এই পুরস্কারটি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের কাজের একটি চূড়ান্ত বৈধতা হিসেবে গণ্য হয়, যা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তোলে।

শান্তি পুরস্কারের ১২৫তম বার্ষিকীর এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসী এমন এক বিজয়ীর অপেক্ষায় রয়েছে, যিনি ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেও শান্তির পথ দেখাতে সক্ষম হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো দীর্ঘদিন এই পুরস্কার থেকে দূরে থাকলেও, এবারের মনোনয়ন তালিকায় থাকা বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা কেবল একটি সম্মাননা প্রদান নয়, বরং এটি বৈশ্বিক রাজনীতির একটি বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড হিসেবেও বিবেচিত হয়। অর্থনীতি, চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের মতো অন্যান্য বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর শান্তি পুরস্কারের ঘোষণাটি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শান্তির যে বার্তা প্রেরিত হয়, তা সাধারণ মানুষের যাতায়াত, মানবিক অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। শেষ পর্যন্ত, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যে, বর্তমান বিশ্বের টালমাটাল পরিস্থিতিতে শান্তি ও ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা কতটুকু অটুট থাকল।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator