খুলনায় শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের সমাপনী: মেধা বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

খুলনায় শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের সমাপনী: মেধা বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ..

LATIF MORAL avatar   
LATIF MORAL
খুলনায় শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের সমাপনী: মেধা বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ..
খুলনায় শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের সমাপনী: মেধা বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ..
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা জেলা শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে মানসম্মত নিজস্ব ভবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্..

খুলনা জেলা শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ এবং শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। খুলনা শিশু একাডেমি কার্যালয়ে আয়োজিত এই সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। মূলত শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বর্তমান সরকারের শিশু-বান্ধব নীতিমালার আলোকে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা। শিশুদের সৃজনশীল কর্মকা-ে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা প্রশাসক বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ‘নতুন কুঁড়ি’-সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুলনা জেলা শিশু একাডেমির বিদ্যমান অবকাঠামো শিশুদের বিশাল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, যা তাদের নিয়মিত অনুশীলনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত অডিটোরিয়াম ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নিজস্ব ভবনের অভাবে শিশুরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সঠিক মঞ্চ পাচ্ছে না। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে খুলনা জেলা শিশু একাডেমির জন্য একটি মানসম্মত ও আধুনিক ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি অডিটোরিয়াম সুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা, শিশু একাডেমির পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দা রেহানা ঈসা এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্যে সাধন কুমার দাস শিশু একাডেমির ৫০ বছরের পথচলার চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন এবং শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের মেধা বিকাশে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়, বরং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুই সুযোগের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিশু একাডেমিকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ের মেধা অন্বেষণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

পরিশেষে, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা অঞ্চলে শিশু অধিকার সুরক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে কেবল পুরস্কার বিতরণ বা আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিশ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবেই আগামীর প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সক্ষম হবে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। মানসম্মত ভবনের নিশ্চয়তা এবং ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা শুধু খুলনা নয়, বরং পুরো দেশের শিশু উন্নয়নে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator