জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত..

আই নিউজ বিডি সারাদেশ avatar   
আই নিউজ বিডি সারাদেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত..
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়..

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নয়জনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত দিনে দশম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের প্রস্তুতি থাকলেও অন্য একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যস্ততার কারণে এই মামলায় সময়ের আবেদন করা হয়, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষ ও ট্রাইব্যুনাল উভয়ই বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপট ও ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র অনুযায়ী, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে এই হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন এবং প্রতিটি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ট্রাইব্যুনালে তাদের উপস্থিতিতে এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মামলার বর্তমান পর্যায়ে চারজন আসামি কারাগারে থাকলেও মূল অভিযুক্তদের অনেকের অনুপস্থিতি বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাক্ষ্যগ্রহণের এই বিলম্ব ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, মামলার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আসামিদের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেলসহ চারজন কারাগারে থাকলেও মামলার প্রধান অভিযুক্ত নানক, তাপস, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং বিপ্লব কুমার সরকারসহ অধিকাংশ আসামিই পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল গত ১০ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। প্রসিকিউশন পক্ষ বারবার দাবি করছে যে, আসামিদের উসকানি ও প্ররোচনার কারণেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং সাক্ষীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের যথাযথ নিরাপত্তা এবং সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না গেলে মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পরিবহন ও জননিরাপত্তা খাতে এই ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি প্রধান মাধ্যম। যদি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে, তবে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। ট্রাইব্যুনালের আগামী ১২ অক্টোবরের পরবর্তী শুনানির দিকে এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে, যেখানে বিচারিক কার্যক্রমের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। ন্যায়বিচারের এই পথ পরিক্রমা শেষ পর্যন্ত জনমনে কতটা আস্থা ফেরাতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator