হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামপাল থানার ওসির আকস্মিক মৃত্যু: শোকের ছায়া বাগেরহাট পুলিশ প্রশাসনে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামপাল থানার ওসির আকস্মিক মৃত্যু: শোকের ছায়া বাগেরহাট পুলিশ প্রশাসনে..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামপাল থানার ওসির আকস্মিক মৃত্যু: শোকের ছায়া বাগেরহাট পুলিশ প্রশাসনে..
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামপাল থানার ওসির আকস্মিক মৃত্যু: শোকের ছায়া বাগেরহাট পুলিশ প্রশাসনে..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজীব আল রশিদ বুধবার দিবাগত রাতে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে।..

বাগেরহাটের রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ রাজীব আল রশিদ বুধবার দিবাগত রাতে আকস্মিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার রাতে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ বোধ করলে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত পাল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, পুলিশের একজন দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তার এমন অকাল প্রস্থান পুরো জেলায় পুলিশ প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের শোকের সংবাদ। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। প্রাথমিক মেডিকেল পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বা গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

শেখ রাজীব আল রশিদের এই আকস্মিক প্রস্থান তার সহকর্মী এবং রামপাল থানা এলাকায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ দমনে অত্যন্ত তৎপর ছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে থানায় এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সদালাপী এবং কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন। তার অকাল প্রয়াণে কেবল সহকর্মীরাই নন, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষ যারা তার সাথে আইনি প্রয়োজনে যোগাযোগ রাখতেন, তারাও ব্যথিত। একজন পুলিশ কর্মকর্তার আকস্মিক শারীরিক জটিলতা এবং তার ফলে মৃত্যুবরণ করার বিষয়টি আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কর্মপরিবেশ এবং শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। নিয়মিত ডিউটির মানসিক চাপ এবং দায়িত্বের প্রবলতা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, যা রাজীব আল রশিদের ক্ষেত্রেও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তার মৃত্যুর পর যথাযথ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতিতে তার নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ প্রশাসন। দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু হওয়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ওসি রাজীব আল রশিদের যে অবদান ছিল, তা স্মরণে রেখে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ শোকবার্তাও প্রচার করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ ১০ বছর বয়সী ছেলে এবং ৬ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। একজন বাবার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারের ওপর যে অপূরণীয় ক্ষতি নেমে এসেছে, তা কোনোভাবেই পূরণীয় নয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে রামপাল থানায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা হলেও অনুভূত হবে। ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মকর্তাদের আকস্মিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা জনমনে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সামাজিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই মর্মান্তিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator