আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬: বাগেরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের কঠোর নজরদারি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬: বাগেরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের কঠোর নজরদারি..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬: বাগেরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের কঠোর নজরদারি..
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬: বাগেরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের কঠোর নজরদারি..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের আয়োজনে নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।..

৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপনকে কেন্দ্র করে এক জরুরি আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো: জামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্গাপূজার মতো একটি বড় উৎসবকে ঘিরে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। পুলিশ সুপার উৎসবের আমেজ বজায় রেখে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উপস্থিত সকল অংশীজনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মতবিনিময় সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ মণ্ডপগুলোর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিয়ে পুলিশের সাথে সরাসরি আলোচনা করেন। ভুক্তভোগী বা সংশয়গ্রস্ত আয়োজকদের পক্ষ থেকে মণ্ডপে বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ এবং রাতের বেলার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পূজা পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পুলিশি নজরদারি থাকবে। স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং মণ্ডপের প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি ব্যবস্থা বজায় রাখার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জেলা পুলিশের বিশেষ টিম পূজার দিনগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করবে এবং প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জদের নিজ নিজ এলাকায় মণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মুহাম্মদ মহিদুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব মোঃ আবু রাসেল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কর্তৃপক্ষের মতে, পূজা উদযাপন কমিটি ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় থাকলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপ কমিটিকে স্থানীয় থানার পুলিশের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এই আগাম প্রস্তুতিমূলক সভা জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপন নিশ্চিত হলে তা ভবিষ্যতে জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপত্তা বিধানে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতি যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator