শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে আনসার-ভিডিপির বহুমুখী আগাম প্রস্তুতি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে আনসার-ভিডিপির বহুমুখী আগাম প্রস্তুতি..

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে আনসার-ভিডিপির বহুমুখী আগাম প্রস্তুতি..
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে আনসার-ভিডিপির বহুমুখী আগাম প্রস্তুতি..
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ে বিশেষ তদারকি কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা..

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক আগাম কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ের সদস্যরা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করা, প্রতিমা নির্মাণস্থলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা। স্থানীয় পর্যায়ের উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ভাতাভোগী সদস্যরা প্রতিটি মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন, যাতে উৎসবের আমেজ কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।

মাঠপর্যায়ের এই পরিদর্শন কার্যক্রমে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সরাসরি মতবিনিময় চলছে, যেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো বিশদভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মণ্ডপের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলো সুনির্দিষ্ট করা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখা এবং অগ্নিনিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, জনসমাগম বেশি হওয়ার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই আনসার সদস্যরা মণ্ডপের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকেও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয় এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পূজাকালীন দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সাথে সমন্বয় করে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা কীভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে পারে, তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রতিটি মণ্ডপে সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা বা সামাজিক অস্থিরতা উৎসবের পরিবেশকে কলুষিত করতে না পারে।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে আনসার-ভিডিপির এই আগাম তৎপরতা মূলত দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বলিষ্ঠ প্রয়াস। এই ধরনের আগাম প্রস্তুতি পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করার জন্য বাহিনীর এই নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি কেবল উৎসবের দিনগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিশেষে, প্রশাসন ও কমিউনিটির এই পারস্পরিক সহযোগিতা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো বড় আয়োজনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

没有找到评论


News Card Generator