রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন উদীয়মান ছাত্রনেতা মীর মোহাম্মদ খোকন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় মীর খোকন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে রাজপথে সোচ্চার থেকেছেন, যা তাকে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে এক পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নিজের প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার এই ঘোষণা কেবল একটি পদের জন্য লড়াই নয়, বরং তিতুমীর কলেজের ছাত্ররাজনীতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে একটি নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মীর খোকনের প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তার শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করছেন। তার অনুসারীদের দাবি, মীর খোকন কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীই নন, বরং মাঠ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি সংকটে তিনি ছায়ার মতো পাশে থাকেন, যা তাকে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। মীর খোকন নিজেই তার নির্বাচনী লক্ষ্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতিকে আরও অধিকতর শৃঙ্খলাবদ্ধ, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কার্যকর করার ব্রত নিয়েই আমি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও তাদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সংগঠনকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী কাঠামোতে রূপান্তর করাই আমার মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, যা ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
অন্যদিকে, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন দায়িত্বশীলরা। যদিও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে নানা ধরনের জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবুও মীর খোকনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামীতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটুকু গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ হবে, তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের সতর্ক পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা আগামীতে নতুন নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থার ভিত্তি নির্ধারণ করবে।
সব মিলিয়ে, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদের এই নির্বাচন কেবল একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং এটি কলেজের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাব বা সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অতীতে শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মীর খোকনের মতো নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করছেন সাধারণ ছাত্ররা। যদি তিনি তার ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন, তবে সেটি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে মীর খোকনের প্রার্থিতা সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং তিনি শেষ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম হন, যা কলেজের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।