চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে দিদারুল আলম (৩৫) নামক এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে মারধরের পর তার মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সরফভাটা এলাকায় সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত দিদারুল আলম পদুয়া ইউনিয়নের নারিশ্চা এলাকার মোহাম্মদ সাবের ও ছায়েরা খাতুনের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাওনা টাকা সংক্রান্ত কোনো একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের রূপ নেয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দিদারুল আলমের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযুক্তদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল। ঘটনার দিন কৌশলে তাকে সরফভাটা এলাকায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর চড়াও হয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অর্থের প্রলোভন কিংবা পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দিদারুল আলম শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুতর জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এই ঘটনার পর নারিশ্চা ও সরফভাটা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দীন জানান, দিদারুল আলমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নারিশ্চা এলাকার হৃদয় ও তাওহীদ নামে দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদিও এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে ওসি জানিয়েছেন যে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে তুচ্ছ পাওনা টাকার বিরোধও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং অপরাধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করছে। যদি দ্রুত এই ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং সমাজে ভয়ের পরিবেশ দূর করতে।