ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে হেলমেট পরে সরকারি সেবা: বাগেরহাটে বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে হেলমেট পরে সরকারি সেবা: বাগেরহাটে বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে হেলমেট পরে সরকারি সেবা: বাগেরহাটে বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ..
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে হেলমেট পরে সরকারি সেবা: বাগেরহাটে বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যেখানে প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে হেলমেট পরে কাজ করছেন সরকারি কর্মীরা।..

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নম্বর বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জরাজীর্ণ অবকাঠামো এখন স্থানীয়দের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া এবং গভীর ফাটল দেখা দেওয়ার কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জীবনের ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়েই কর্মীরা মাথায় হেলমেট পরে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন। গত রোববার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাটি দীর্ঘদিনের অবহেলার চরম বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিন এই ভবনে জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদসহ নানা কাজে শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটে, অথচ ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ভবনটির হলরুম ও তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ প্রতিটি কক্ষই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভাষ্যমতে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি ব্যবহারের সক্ষমতা হারিয়েছে। সেবা নিতে আসা প্রসেনজিৎ ও আতিয়ার রহমানের মতো সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হেলমেট পরে কাজ করার মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও, সেবাগ্রহীতাদের জন্য কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ার ফলে প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদের মতে, ভবনটি দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ, কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্মীরা সরাসরি জানিয়েছেন যে, ভবনের কোনো কক্ষই এখন নিরাপদ নয়, যা অফিসের ভেতরে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও জায়গার স্বল্পতার দোহাই দিয়ে দীর্ঘ সময় পার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন, বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দপ্তরে সেবার মান নিশ্চিত করার চেয়ে ভবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বরাদ্দ প্রাপ্তির অপেক্ষায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জিম্মি হয়ে আছে।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের এই বেহাল দশা কেবল স্থানীয় প্রশাসনের অদূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে না, বরং এটি সরকারি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতির একটি নজির। সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকা সরকারি স্থাপনাগুলো যখন জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা জনসেবার মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভবনটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সরকারি সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে প্রশাসনিক স্থবিরতা ও জননিরাপত্তার সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করবে, যা স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

نظری یافت نشد


News Card Generator