মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদে বাবাকে নির্যাতন, থানায় এজাহারের পরও হয়নি ব্যবস্থা!.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদে বাবাকে নির্যাতন, থানায় এজাহারের পরও হয়নি ব্যবস্থা!..

খবর অনুসন্ধানী (আক্কেল ভাই) avatar   
খবর অনুসন্ধানী (আক্কেল ভাই)
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদে বাবাকে নির্যাতন, থানায় এজাহারের পরও হয়নি ব্যবস্থা!..
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদে বাবাকে নির্যাতন, থানায় এজাহারের পরও হয়নি ব্যবস্থা!..
ছবি: সংগৃহীত
তালায় কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনায় তালা থানায় এজাহার দাখিল করেন ভুক্তভোগী পরিবার ।..


কিন্তু থানা পুলিশ গাফলতি করে সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তিন দিনের মাথায় নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলো ওই কলেজছাত্রীর মরদেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। 

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে তালার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নীলা খাতুন(১৮) কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। 

নিহত কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) কলেজে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। এ নিয়ে আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে কলেজছাত্রীর তর্ক-বিতর্কও হয়। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে কলেজছাত্রীর বাবা লিটন শেখকে ধরে নিয়ে আমজেত শেখের বাড়ির উঠানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।  এ সময় মেয়ে ও স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি তাঁর। ওই মারধরে রকি শেখ, শোয়েব মালী ও ইমন শেখের পাশাপাশি আমজেত শেখ, ইমরান শেখ ও আকলিমা খাতুনও অংশ নেন।

ঘটনার দিনই তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকীর কাছে হাজির হয়ে এ ঘটনায় এজাহার দেন বাবা লিটন শেখ। কিন্তু এজাহার দেওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং অভিযুক্তরা পরবর্তীতে আরও বেপরোয়া হয়ে হুমকি দিতে থাকে। এ অবস্থার মধ্যেই ঘটনার তিন দিনের মাথায় তাঁর কলেজপড়ুয়া মেয়েকে বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কেউ না থাকার ঘরের ভেতর ওই কলেজছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। সে সময় ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা লিটন শেখ বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আমার ধারণা। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। আগে থেকেই থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। পুলিশ তখন ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মেয়েকে হারাতে হতো না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।

নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেনও ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার সময় নিহতের পা মাটির সঙ্গে লেগে ছিল। এছাড়া গলায় রশির যে ধরনের দাগ থাকার কথা, তেমন দাগও তিনি দেখতে পাননি বলে দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, নিহতের মোবাইল ফোনটি ঘরে পাওয়া যায়নি। ফোনে কল দিলে রিং হলেও কেউ তা ধরছে না।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার ভাগ্নিকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আমরা সন্দেহ করছি। এর আগে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ যদি কার্যকর ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

পরিবারের অভিযোগ, আগের মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে কলেজছাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় আগের অভিযোগ, পুলিশি পদক্ষেপের ধরন এবং মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এদিকে থানায় দেওয়া এজাহারের পর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, আগের নির্যাতন ও কলেজ ছাত্রীকে উক্ত্যক্ত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে থানার ওসির সহিত ৪০ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তরা প্রচার দিয়েছেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, কলেজছাত্রীর মৃত্যুর পরদিন মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে গিয়ে গরু-ছাগল খুলে নিয়ে যায়। মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর ঘটনার পরও এমন ঘটনা ঘটায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। 

কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রয়তার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঠিক তেমনটি নয়। পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছিল। এর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় গতকাল রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

نظری یافت نشد


News Card Generator