সিরাজগঞ্জের ইতিহাসে মির্জা মোরাদুজ্জামানের অবদান অবিস্মরণীয়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সিরাজগঞ্জের ইতিহাসে মির্জা মোরাদুজ্জামানের অবদান অবিস্মরণীয়..

Juwel Hossain avatar   
Juwel Hossain
সিরাজগঞ্জের ইতিহাসে মির্জা মোরাদুজ্জামানের অবদান অবিস্মরণীয়..
সিরাজগঞ্জের ইতিহাসে মির্জা মোরাদুজ্জামানের অবদান অবিস্মরণীয়..
ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সিরাজগঞ্জে দলমত নির্বিশেষে কাজ করেন..

ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৩৯ সালের ১১ মার্চ সিরাজগঞ্জ সদরের কাওয়াখোলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি মওলানা ভাসানীর সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রৌমারী-আসাম হয়ে ভারতে যান। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৯ সালে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সিরাজগঞ্জে দলমত নির্বিশেষে কাজ করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য, শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহযোগিতায় সিরাজগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর, অনার্স-মাষ্টার্স কোর্স চালু, বাণিজ্য ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, ভাসানী ডিগ্রী কলেজ, যমুনা ডিগ্রী কলেজ, শিমলা ডিগ্রী কলেজ ও বাগবাটি কলেজ এমপিওভুক্তকরণ।

এছাড়াও শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়াম, সদর হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, সিরাজগঞ্জ বার ভবন নির্মাণ এবং যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

সিরাজগঞ্জের এই কৃতি সন্তান ১৯৯৫ সালের ১৮ জুলাই ভোরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লোকচক্ষুর অন্তরালে গেলেও সিরাজগঞ্জের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর অবদান আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator