সুন্দরবন সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর: অনুমোদনহীন ১৮ রিসোর্ট উচ্ছেদের নির্দেশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সুন্দরবন সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর: অনুমোদনহীন ১৮ রিসোর্ট উচ্ছেদের নির্দেশ..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
সুন্দরবন সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর: অনুমোদনহীন ১৮ রিসোর্ট উচ্ছেদের নির্দেশ..
সুন্দরবন সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর: অনুমোদনহীন ১৮ রিসোর্ট উচ্ছেদের নির্দেশ..
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি অবৈধ রিসোর্ট ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আইন অমান্য করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও নিয়মিত মামলার হুঁশ..

সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে খুলনার ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজকে এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিন এবং নতুন নির্মিত ৮টি রিসোর্টকে ১৫ দিনের মধ্যে সব ধরনের স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সক্রিয়তায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে এটি একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যা বনের সুরক্ষায় জরুরি হয়ে পড়েছিল।

ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের পক্ষ থেকে পূর্বে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদামতো আইনি কাগজপত্র বা ছাড়পত্র জমা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে আটটি রিসোর্টকে সাত দিনের সময় দেওয়া হলেও তারা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি, যা আইন অমান্যের শামিল। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব রিসোর্ট সুন্দরবনের অভয়ারণ্য ও ডলফিন বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ঢাংমারী খালের পরিবেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। পর্যটকবাহী ট্রলারের অবাধ যাতায়াত এবং শব্দদূষণের কারণে বনের বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর প্রজনন ও স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছিল। রিসোর্ট মালিকদের এই অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম মূলত দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা স্থানীয় পর্যটন শিল্পের আড়ালে বন ধ্বংসের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং কঠোর আইনি মামলা দায়েরসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই অভিযানের সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, কারণ খুলনার বাইরে বাগেরহাটের মোংলা, চিলা ও চাঁদপাই এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টগুলোর বিষয়ে স্থানীয় জেলা কার্যালয়ের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এই সমন্বয়হীনতা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিদপ্তরের দাবি, প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারণে বাগেরহাট অঞ্চলের রিসোর্টগুলো বর্তমানে তাদের এখতিয়ারের বাইরে রয়েছে, ফলে সুন্দরবনের একটি বড় অংশে গড়ে ওঠা রিসোর্টগুলো আপাতত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সুন্দরবন ঘিরে গড়ে ওঠা এসব রিসোর্টের বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়, বরং এটি দেশের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষার জন্য একটি সতর্কবার্তা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বনের চারপাশের সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা হ্রাস পাবে। তবে শুধুমাত্র খুলনার অংশ নয়, বাগেরহাটসহ সুন্দরবনের পুরো সীমানা জুড়ে এই নজরদারি বিস্তৃত করা না গেলে বনের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পর্যটন বা ব্যবসার নামে বন ও পরিবেশ ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে এবং টেকসই পর্যটন নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বনের জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখবে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator