কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক হিসেবে ডা. আতিকুর রহমানের নিয়োগ ও নতুন চ্যালেঞ্জ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক হিসেবে ডা. আতিকুর রহমানের নিয়োগ ও নতুন চ্যালেঞ্জ..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক হিসেবে ডা. আতিকুর রহমানের নিয়োগ ও নতুন চ্যালেঞ্জ..
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক হিসেবে ডা. আতিকুর রহমানের নিয়োগ ও নতুন চ্যালেঞ্জ..
ছবি: সংগৃহীত
অনিয়ম ও অচলাবস্থা নিরসনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশে কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক হিসেবে ডা. মো. আতিকুর রহমান তালুকদারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।..

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশাজীবী চিকিৎসক ডা. মো. আতিকুর রহমান তালুকদারকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশে কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  ৫ অক্টোবর ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর আওতায় সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পর এই প্রশাসনিক রদবদল আনা হলো। মূলত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর করার লক্ষ্যেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা সংগঠনটির দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডা. আতিকুর রহমান অতীতে পাবনা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংগঠনটির বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়ম ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনটি তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দানা বাঁধে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসককে এখন সংগঠনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষ করে, স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহিতার সংকট কাটাতে ডা. আতিকুর রহমানকে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ ও ১৯৬২ সালের বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনের সদস্যদের মতে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে নতুন প্রশাসকের ভূমিকা কেবল প্রশাসনিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনাই হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রশাসককে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই হবে ডা. আতিকুর রহমানের প্রধান দায়িত্ব। তাকে প্রতি মাসে সংগঠনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, যাতে সরকারি নজরদারি নিশ্চিত থাকে। তবে এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বর্তমান কমিটির প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, গঠনতন্ত্রের বাইরে কোনো ধরনের স্বৈরাচারী বা একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না, যা মূলত সংগঠনটির গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।

ডা. আতিকুর রহমানের এই নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হবে। আগামী ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচন আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে সংগঠনটি পুনরায় তার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসতে সক্ষম হবে। যদি এই প্রশাসনিক পরিবর্তন সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যে, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার যেকোনো সময় কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ডা. আতিকুর রহমান তার অর্পিত দায়িত্ব কতটা স্বচ্ছতার সাথে পালন করে সংগঠনের দীর্ঘদিনের সংকট দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

Walang nakitang komento


News Card Generator