শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ঢাকা, প্রত্যর্পণ নিয়ে বাড়ছে টানাপড়েন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ঢাকা, প্রত্যর্পণ নিয়ে বাড়ছে টানাপড়েন..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ঢাকা, প্রত্যর্পণ নিয়ে বাড়ছে টানাপড়েন..
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ঢাকা, প্রত্যর্পণ নিয়ে বাড়ছে টানাপড়েন..
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ, যদিও আইনি জটিলতা ও ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস..

২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপড়েনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাসিনা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই তিনি নয়াদিল্লির সুরক্ষায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার পর থেকেই ঢাকা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে প্রধান আসামি হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভারত সরকার তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরিচয় দেবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছে। তবে এই দাবিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ এখন একটি জটিল সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে, যারা ২০২৪ সালের সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর বিচার প্রত্যাশা করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল আইনি মারপ্যাঁচে অপরাধীকে আটকে রাখা ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। অন্যদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন যে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে যখন হাসিনা বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে ভারতে পৌঁছান, তখন একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। এই বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন, মানবিক আশ্রয়ের দোহাই দিয়ে ভারত আসলে মামলার রায় কার্যকর করতে বাধা সৃষ্টি করছে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ভারতের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে জানানো হয়েছে যে, এই চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার আইনি সুযোগ রয়েছে। এই আইনি মারপ্যাঁচকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারত সরকার সময়ক্ষেপণ করছে বলে ঢাকা মনে করছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হাসিনা যদি নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরেন, তবে তাকে বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার করা হবে। এই বিরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগেও; বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর এই অচলাবস্থার কারণে বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। ভারত সরকার একদিকে কৌশলগত মিত্রতা বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির বাধ্যবাধকতার জালে আটকে পড়েছে, যা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার ফলে বাংলাদেশে জনমনে ভারতবিরোধী মনোভাব ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর সমাধান না আসে, তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে এবং এর প্রভাব পড়বে সীমান্ত বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও অন্যান্য কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর। এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার মানবিক আশ্রয় এবং আইনি বাধ্যবাধকতার এই ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটায়।

コメントがありません


News Card Generator