শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন রূপকল্প.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন রূপকল্প..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন রূপকল্প..
শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন রূপকল্প..
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যার লক্ষ্য হলো আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা।..

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশুই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে না। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই বাজেট আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক প্রাপ্তি এবং নতুন সিলেবাসের বাস্তবায়নের বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়, বরং হাতে-কলমে শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাদানের কৌশলে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পরিধি বাড়ানো এবং ক্যাম্পাসে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে বই বিমুখতা দূর করাই এই সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য, যাতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল ও আধুনিক জ্ঞান অর্জনে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে।

শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, শিক্ষকতা কোনো উপায়হীন বিকল্প পেশা হতে পারে না। মেধাবীরা যেন স্বেচ্ছায় এবং গর্বের সাথে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর আধুনিকায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষকরা যেন সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ প্রণোদনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণা দেশের শিক্ষা খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাজেটে এই বড় ধরনের বরাদ্দ কেবল অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। যদি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি দেশের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। তবে এই বিশাল বাজেটের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্নীতিরোধে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সামগ্রিকভাবে, সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং এর সুফল পাবে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা, যা জাতীয় অগ্রগতির চাকা আরও বেগবান করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator