অপটোজেনেটিকস গবেষণায় বৈপ্লবিক সাফল্য: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী তিন বিজ্ঞানী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অপটোজেনেটিকস গবেষণায় বৈপ্লবিক সাফল্য: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী তিন বিজ্ঞানী..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
অপটোজেনেটিকস গবেষণায় বৈপ্লবিক সাফল্য: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী তিন বিজ্ঞানী..
অপটোজেনেটিকস গবেষণায় বৈপ্লবিক সাফল্য: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী তিন বিজ্ঞানী..
ছবি: সংগৃহীত
মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্মোচনে আলোক-নির্ভর গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেলকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।..

চলতি বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার, ৫ অক্টোবর। স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান এবং জর্জ নাগেলকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার জন্য মনোনীত করে। আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাদের যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। গবেষণার মূল বিষয়বস্তু হলো আলোক তরঙ্গের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রমকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করা। এই তিন বিজ্ঞানী মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে স্নায়ুবিজ্ঞানের এই জটিল রহস্য উন্মোচনে কাজ করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে স্নায়বিক রোগ নির্ণয় এবং মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ জটিল প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ৫৪ বছর বয়সি কার্ল ডেইসেরথ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, ৭১ বছর বয়সি পিটার হেগেম্যান হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৭৩ বছর বয়সি জর্জ নাগেল ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অপটোজেনেটিকস বা আলোক-জেনেটিক্স পদ্ধতিটি মূলত আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী বা রোগীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের জটিল স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাবনা এখন বিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নোবেল কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট নিউরনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সক্ষম হচ্ছেন, যা আগে প্রায় অসম্ভব ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নোবেল কমিটি এই গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করে জানায় যে, বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত গবেষণাগারে মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে এই পদ্ধতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান নোবেল কমিটির সচিব থমাস পার্লম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি সোমবার টেলিফোনে তিন বিজয়ীর সঙ্গেই সফলভাবে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের এই অভূতপূর্ব অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্নায়ুকোষের এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কেবল তাত্ত্বিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ভবিষ্যতে পারকিনসন্স বা আলঝেইমারের মতো জটিল স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিজয়ীদের গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা স্নায়ুবিজ্ঞানকে আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও দৃশ্যমান করে তুলেছে। নোবেল পুরস্কারের প্রথা অনুযায়ী, এ বছর বিজয়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা বা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার। পুরস্কার ঘোষণা শেষে নোবেল কমিটি জানিয়েছে যে, এই অর্থমূল্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই থাকবে। সুইডেনের স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নোবেল সপ্তাহ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এর পরবর্তী ধাপগুলোতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতিতে অবদানের জন্য পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞান মহলে এই পুরস্কারের ঘোষণা আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

পরিশেষে, কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেলের এই অর্জন ভবিষ্যতে নিউরোসায়েন্সের গবেষণাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করার এই সক্ষমতা কেবল গবেষণাগারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা দীর্ঘমেয়াদে মানবজাতির স্বাস্থ্যসেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এই গবেষণার প্রভাব সরাসরি স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় প্রয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু হলে, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা দৈনন্দিন জীবনে এই প্রযুক্তির প্রভাব সরাসরি অনুভূত না হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসেবা এবং জটিল রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে তাদের নামকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator